ঢাকা ১০:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

ফেনীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিডির যোগ-সাজোশে অবৈধ ইট ভাটার রমরমা ব্যবসার অভিযোগ


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৫:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫
  • / ২১১৯ বার পড়া হয়েছে

ফেনী প্রতিনিধি

ফেনী জেলায় অবৈধ ইটের ভাটা থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে ইট উৎপাদনের সহায়তা করছে ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছাম্মদ শওকত আরা কলি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

সরেজমিনের তথ্য ও ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফেনী জেলায় ১০২ টি ইটের ভাটা রয়েছে, তন্মধ্যে ৪৫টি বৈধ, ৫৭ টি অবৈধ।

জেলার ৪৫ টি বৈধ ইটভাটার মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ১৬টি, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ৮টি,
দাগনভূঞা উপজেলায় ৮টি, ফুলগাজী উপজেলায় ৭টি, সোনাগাজী উপজেলা ৪টি ও পরশুরাম উপজেলায় ২টি।

জেলার ৫৭টি অবৈধ ইটভাটার মধ্যে দাগনভূঞা ১৭টি, ফেনী সদর ১৪টি, ফুলগাজী ১১টি,
ছাগলনাইয়া ১০টি, পরশুরাম ৩টি ও সোনাগাজী ২টি।
সর্বমোট ১০২টির মধ্যে ৯টি ইটভাটা সাময়িক ভাবে মালিক পক্ষ থেকে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে ৯৩ টি ইটভাটা জেলায় চলমান রয়েছে।

এর মধ্যে দাগনভূঞা উপজেলায় সর্বোচ্চ ১৭টি অবৈধ এবং ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নে ৭টি ইটভাটা রয়েছে।

বেশকিছু অবৈধ ইটভাটার ১ কি.মি. মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তর এইসব ইটভাটার অনুমোদন না দিলেও বছরের পর বছর অফিস ম্যানেজ করে চলছে ইট উৎপাদন।

এইসব অবৈধ ইট ভাটার কারণে জেলা জনসাধারণের স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি ২/৩ ফসলি জমির ইট ভাটার ধোঁয়া থেকে ধান, শাক সবজি ফলমূল নষ্ট হচ্ছে।
এছাড়াও ফসলি জমির টপ-সোয়েল কেঁটে নিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছে একটি অসাধু চক্র। এসব ইটভাটার কারণে মাটির টপ-সয়েল কাঁটার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ধান চাষ সহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূল শাকসবজি চাষ।
আবার যেসব জমিতে চাষবাস হচ্ছে সেগুলা ইটভাটার ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে জেলার জনসাধারণ।

এমতাবস্থায় অবৈধ ইটভাটা গুলো স্থায়ীভাবে বন্ধের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সাধারণ জনতা।

অবৈধ ইটভাটা সম্বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাম্মদ শওকত আরা কলি বলেন,অবৈধ ইটভাটা বন্ধের ব্যাপারে পর্যাপ্ত লোকবল না থাকার কারণে অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব অভিজিৎ দাস বলেন,
পরিবেশ অধিদপ্তরের চাহিদা মোতাবেক আমরা ম্যাজিস্ট্রেট সহ প্রশাসনিক সহায়তা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।
পরিবেশ অধিদপ্তর যখনি লজিস্টিক সাপোর্ট চাইবে তখনি আমরা সহায়তায় করব।
অচিরেই আমরা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করব।

এই ব্যাপারে অবৈধ ইটভাটার মালিকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
এমতাবস্থায় জেলার জনসাধারণের স্বাস্থ্যঝুকি ও ফসলি জমির টপ-সয়েল রক্ষার্থে সর্বোচ্চ
বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ ও ধ্বংস সময়ের দাবি।

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ফেনীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিডির যোগ-সাজোশে অবৈধ ইট ভাটার রমরমা ব্যবসার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৫:৫১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জানুয়ারী ২০২৫

ফেনী প্রতিনিধি

ফেনী জেলায় অবৈধ ইটের ভাটা থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে ইট উৎপাদনের সহায়তা করছে ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছাম্মদ শওকত আরা কলি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

সরেজমিনের তথ্য ও ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফেনী জেলায় ১০২ টি ইটের ভাটা রয়েছে, তন্মধ্যে ৪৫টি বৈধ, ৫৭ টি অবৈধ।

জেলার ৪৫ টি বৈধ ইটভাটার মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায় ১৬টি, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ৮টি,
দাগনভূঞা উপজেলায় ৮টি, ফুলগাজী উপজেলায় ৭টি, সোনাগাজী উপজেলা ৪টি ও পরশুরাম উপজেলায় ২টি।

জেলার ৫৭টি অবৈধ ইটভাটার মধ্যে দাগনভূঞা ১৭টি, ফেনী সদর ১৪টি, ফুলগাজী ১১টি,
ছাগলনাইয়া ১০টি, পরশুরাম ৩টি ও সোনাগাজী ২টি।
সর্বমোট ১০২টির মধ্যে ৯টি ইটভাটা সাময়িক ভাবে মালিক পক্ষ থেকে বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে ৯৩ টি ইটভাটা জেলায় চলমান রয়েছে।

এর মধ্যে দাগনভূঞা উপজেলায় সর্বোচ্চ ১৭টি অবৈধ এবং ফুলগাজী উপজেলার আনন্দপুর ইউনিয়নে ৭টি ইটভাটা রয়েছে।

বেশকিছু অবৈধ ইটভাটার ১ কি.মি. মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, পরিবেশ অধিদপ্তর এইসব ইটভাটার অনুমোদন না দিলেও বছরের পর বছর অফিস ম্যানেজ করে চলছে ইট উৎপাদন।

এইসব অবৈধ ইট ভাটার কারণে জেলা জনসাধারণের স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, পাশাপাশি ২/৩ ফসলি জমির ইট ভাটার ধোঁয়া থেকে ধান, শাক সবজি ফলমূল নষ্ট হচ্ছে।
এছাড়াও ফসলি জমির টপ-সোয়েল কেঁটে নিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছে একটি অসাধু চক্র। এসব ইটভাটার কারণে মাটির টপ-সয়েল কাঁটার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ধান চাষ সহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূল শাকসবজি চাষ।
আবার যেসব জমিতে চাষবাস হচ্ছে সেগুলা ইটভাটার ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে জেলার জনসাধারণ।

এমতাবস্থায় অবৈধ ইটভাটা গুলো স্থায়ীভাবে বন্ধের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে সাধারণ জনতা।

অবৈধ ইটভাটা সম্বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাম্মদ শওকত আরা কলি বলেন,অবৈধ ইটভাটা বন্ধের ব্যাপারে পর্যাপ্ত লোকবল না থাকার কারণে অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব অভিজিৎ দাস বলেন,
পরিবেশ অধিদপ্তরের চাহিদা মোতাবেক আমরা ম্যাজিস্ট্রেট সহ প্রশাসনিক সহায়তা দেয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।
পরিবেশ অধিদপ্তর যখনি লজিস্টিক সাপোর্ট চাইবে তখনি আমরা সহায়তায় করব।
অচিরেই আমরা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করব।

এই ব্যাপারে অবৈধ ইটভাটার মালিকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
এমতাবস্থায় জেলার জনসাধারণের স্বাস্থ্যঝুকি ও ফসলি জমির টপ-সয়েল রক্ষার্থে সর্বোচ্চ
বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ ইটভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধ ও ধ্বংস সময়ের দাবি।