শিরোনাম ::
যেসব কারণে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ট্রুডো, উত্তরসূরির আলোচনায় যারা
বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
- আপডেট সময় : ০২:৩১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৫
- / ২০৮৮ বার পড়া হয়েছে
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জানুয়ারি) অটোয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রুডো বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে থাকবেন।
জাস্টিন ট্রুডো ২০১৩ সালে লিবারেল পার্টির নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেসময় কানাডিয়ান এই দলটি গভীর সমস্যায় পড়েছিল এবং প্রথমবারের মতো হাউস অব কমন্সে তৃতীয় স্থানে নেমে গিয়েছিল। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলে ২০১৫ সালে লিবারেল পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচন করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
এরপর থেকে টানা নয় বছর ধরে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছেন লিবারেল পার্টির এই নেতা।
সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে ট্রুডো বলেন, ‘আমি যখন ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী হই তখন থেকেই কানাডার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছি। মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে মজবুত করার জন্য কাজ করেছি আমি।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেবা করার সুযোগ পাওয়ায় আমি গর্বিত। করোনা মহামারির সময়ে আমি দেশের মানুষের পাশে থেকে সেবা করতে পেরেছি, গণতন্ত্রকে মজবুত করার জন্য কাজ করেছি।’
নিজের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা করার পর তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন। তবে লিবারেল পার্টি নতুন একজন নেতা নির্বাচিত না করা পর্যন্ত তিনি নিজ পদে দায়িত্ব পালন করার কথা জানান।
কেন পদত্যাগ করলেন ট্রুডো?
তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা ট্রুডো হঠাৎ কেন পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন? আর ক্ষমতা ছাড়ার পর লিবারেল পার্টির পরবর্তী নেতা কীভাবে বেছে নেয়া হবে?
চলতি বছরের অক্টোবরে কানাডায় সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে এরইমধ্যে কানাডায় বেশকিছু জনমত সমীক্ষা চালানো হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, কয়েক বছর আগেও জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ট্রুডো ক্রমেই ভোটারদের আস্থা হারাচ্ছেন।
অর্থাৎ এবার যদি ট্রুডো লিবারেল পার্টির নেতৃত্বে থাকেন, তাহলে দলটি আগামী নির্বাচনে হেরে যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদের পাশাপাশি নিজ দলের ভেতর থেকেও বেশ চাপে ছিলেন তিনি।
গত ডিসেম্বরে জনমত সমীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, কানাডার নাগরিকদের মধ্যে মাত্র ২২ শতাংশ ট্রুডোর নেতৃত্বে ভরসা রাখেন। ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গত নয় বছরে জনসমর্থন এত কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেখা যায়নি।
এছাড়া লিবারেল পার্টির সদস্যরা গত গ্রীষ্মকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ দেয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। পাশাপাশি নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যিক শুল্ক আরোপের হুমকিও পদত্যাগের কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিবিসির টরেন্টোর সংবাদদাতা জেসিকা মারফি বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেই দিয়েছেন যে কানাডা যদি অনুপ্রবেশকারীদের এবং বেআইনি মাদক আমেরিকায় প্রবেশের ওপরে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারে তাহলে কানাডা থেকে আসা পণ্যের ওপরে তিনি ২৫ শতাংশ কর আরোপ করবেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কিছুদিন আগে পদত্যাগ করেন কানাডার অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড। যা নিয়ে আরও চাপে পড়েন ট্রুডো।
এদিকে ট্রুডোর পদত্যাগের পর প্রতিক্রিয়া জানিযেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (৬ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া একটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘কানাডার অনেকেই আমাদের ৫১তম রাজ্য হতে পছন্দ করে। কানাডাকে টিকিয়ে রাখার জন্য বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি এবং ভর্তুকির চাপ যুক্তরাষ্ট্র ভোগ করবে না। জাস্টিন ট্রুডো এটা জানতেন এবং তাই তিনি পদত্যাগ করেছেন।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যদি কানাডা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত হয় তাহলে সেখানে কোন শুল্ক থাকবে না, কর অনেকটাই কমে যাবে এবং তারা রাশিয়ান এবং চীনা জাহাজের হুমকি থেকে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ থাকবে। একসাথে, এটা কি একটি মহান জাতি হবে!!!’
কে হচ্ছেন ট্রুডো উত্তরসূরি?
ট্রুডো পদত্যাগ করার পর আগামী ২৪ মার্চ পর্যন্ত পার্লামেন্ট অধিবেশন স্থগিত করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে লিবারেল পার্টি নতুন নেতা নির্বাচন করার কথা রয়েছে।
যদিও কোন প্রক্রিয়ায় কীভাবে দলটি নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করবে, সেটি এখনও স্পষ্ট নয়। সাধারণত চার-পাঁচ মাসের একটি লম্বা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দলগুলো নতুন নেতা নির্বাচন করে থাকে। এর প্রক্রিয়ার মধ্যে আনুষ্ঠানিক একটি সম্মেলনও অন্তর্ভুক্ত থাকে।
কিন্তু এবার নেতা নির্বাচন করার জন্য লিবারেলরা বেশি সময় পাবেন না। তবে দলের নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া যে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে, সোমবারের ভাষণে সেটি আভাস দিয়েছেন ট্রুডো।
তিনি বলেন, দেশব্যাপী একটি ‘শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লিবারেল পার্টির নতুন নেতা নির্বাচন করা হবে।
কানাডার লিবারেল পার্টির প্রেসিডেন্ট সচিত মেহরা বলেন, তাদের নতুন নেতা নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করার জন্য খুব শিগগিরই একটি দলের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন।
ট্রুডোর উত্তরসূরি কে হতে যাচ্ছেন, সেটি এখনও পরিষ্কার নয়। তবে বেশ কয়েক জনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে ট্রুডোর সরকারের সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড, পরিবহনমন্ত্রী অনিতা আনন্দ এবং কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা মার্ক কারনির নাম বেশ আলোচনায় রয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
ট্যাগস :



























