ফেনীতে অবৈধ ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের লোক দেখানো অভিযান
- আপডেট সময় : ১১:০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৫
- / ২১৪০ বার পড়া হয়েছে
পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনী উপপরিচালক এর কার্যালয় সুত্রমতে ফেনী জেলায় ১০২টি ইটভাটা রয়েছে। জেলার ৪৫ টি বৈধ ইটভাটার মধ্যে ফেনী সদর ১৬টি, ছাগলনাইয়া ৮টি, দাগনভূঞা ৮টি, ফুলগাজী ৭টি, সোনাগাজী ৪টি ও পরশুরাম উপজেলায় ২টি। জেলার ৫৭টি অবৈধ ইটভাটার মধ্যে দাগনভূঞা ১৭টি, ফেনী সদর ১৪টি, ফুলগাজী ১১টি, ছাগলনাইয়া ১০টি, পরশুরাম ৩টি ও সোনাগাজী উপজেলায় ২টি। তথ্যমতে জেলায় অবৈধ ইটভাটার মালিকগণ প্রভাবশালী হওয়ায় নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে পরিবেশ অধিদপ্তর এর ফেনী কার্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ম্যানেজ করে কোন ছাড়পত্র ছাড়াই ইট উৎপাদন করে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর বিগত সময়েও নামমাত্র অভিযান চালিয়ে দায় সেরেছেন, তেমনিভাবে এখনও লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে খান্ত দিয়েছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনীর উপপরিচালক মোছাম্মৎ শওকত আরা কলি বলেন, প্রয়োজনীয় লোক-বল ও অর্থের অভাবে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়না, সাম্প্রতিক অভিযানে তাদের এক লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে, তা নিজেরা ম্যানেজ করেছেন।
অর্থ চাড়ের জন্য সদর দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন, সদর দপ্তর যদি অর্থ চাড় দেন এবং অভিযানের অনুমতি দেন তাহলে পুনরায় অভিযান চালাবেন।
এই ব্যাপারে সদ্য অভিযান পরিচালনাকারি সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, যখনি ফেনীর উপপরিচালক চাইবেন তখনি অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালাবে সদর দপ্তর।
জেলায় অবৈধ ইটভাটার ব্যাপারে ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ইটভাটাসহ ফসলি জমির টপসয়েল কাঁটা বন্ধে জেলার সর্বত্রই অভিযান বেগবান করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর যখনই অভিযান পরিচালনা করতে চাইবে, তখনই লোকবল দিয়ে সহযোগিতা করা হবে।
অবৈধ ইটভাটা সম্পর্কে মালিক সমিতির সভাপতি বলেন, জেলায় চাহিদার তুলনায় ইটভাটা অপ্রতুল। ফুলগাজী আনন্দপুর ইউনিয়নে ৭টি ইটভাটা রয়েছে মর্মে জানতে চাইলে সভাপতি বলেন, আনন্দপুর ইউনিয়নে জলাশয় বেশী। অথচ ফুলগাজী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর তথ্যনুযায়ী আনন্দপুর ইউনিয়নে আবাদি জমি রয়েছে ৭৯৫ হেক্টর, জলাশয় ৩০ হেক্টর, স্থায়ী পতিত জমি ১৫ হেক্টর। এদিকে রাতের আধারে প্রতিনিয়ত ফসলি জমির টপসয়েল কেঁটে মাটি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে। এতে কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে, পাশাপাশি ইটভাটার নি:সৃত ধোঁয়া-ছাই ভাটার আশেপাশে ধান, শাক সবজি ফলমূল নষ্ট হচ্ছে।
গবেষকদের তথ্যমতে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু উভয়ের জন্য পার্টিকুলেট ম্যাটার স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ইটভাটা থেকে নির্গত এই দূষিত উপাদান মানবদেহে শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রবেশ করলে রেসপিরেটরি সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে ইটভাটার আশপাশে বসবাসরত মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। বর্তমানে বায়ুতে পার্টিকুলেটস ম্যাটারের উপস্থিতিতে মানুষের মৃত্যুর হার আগের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বায়ুতে মাত্রাতিরিক্ত সালফার ডাইঅক্সাইডের উপস্থিতির কারণে মানুষ চোখ, নাক, গলাসহ অ্যাজমাটিক সমস্যার সন্মুখীন হচ্ছে। মোটা দাগে বলা যেতে পারে, বায়ুতে দূষিত উপাদানের উপস্থিতিতে ফুসফুসে ক্যান্সার, হার্ট অ্যাটাক ও অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর হার বেড়ে যাচ্ছে।
ইট তৈরিতে ব্যবহৃত মাটিতে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। উচ্চ তাপে ওই মাটিতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম কার্বনেট ভেঙে ক্যালসিয়াম অক্সাইড ও কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয়। এভাবে দেখা যাচ্ছে, প্রতি কেজি ইট তৈরিতে শুধু মাটি থেকে প্রায় ২৫ গ্রাম কার্বন ডাইঅক্সাইড বায়ুমণ্ডলে যোগ হয়, যা বায়ু দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
উল্লেখ্য, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ (সংশোধিত) ২০১৮ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১কি.মি মধ্যে ও কৃষিজমিতে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এ আইন লঙ্ঘন করেই চলছে অবৈধ ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম।























