ফেনীতে ডিডি কে ম্যানেজ করে চলছে অবৈধ ইট ভাটার রমরমা ব্যবসা
- আপডেট সময় : ১১:৫৯:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৫
- / ২২৯৩ বার পড়া হয়েছে
কাগজে-কলমে ফেনীতে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে ১০২ টি ইটভাটার মধ্যে ৪৫টি বৈধ, ৫৭টি অবৈধ। খোঁজ নিয়ে জানা যায় কাগজে-কলমে ৪৫টির মধ্যে ৫/৭ টির পরিবেশ অধিদপ্তর এর ছাড়পত্র রয়েছে, বাকিগুলোর ছাড়পত্র নবায়ন নেই। আর ৫৭ টি অবৈধ ইটভাটার মধ্যে ৪৬/৪৭টি সহ জেলায় ৯০/৯২টি ইটভাটা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

গত ২ জানুয়ারি পরিবেশ সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযান চালিয়ে ৫টি জরিমানা, ২টি ভাঙচুরে, ১টি আংশিক ভাঙচুরে করেন। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই ৪/৫ মাস মৌসুমি ইটের ভাটার কার্যক্রম চালু থাকে।
সূত্রমতে ২ জানুয়ারি ২০২৫ খ্রি: অভিযানের প্রেক্ষিতে ইটভাটার মালিক সমিতি ও ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তরের ফেনীর উপ-পরিচালক মোছাম্মদ শওকত আরা কলির সাথে দরকষাকষির একটি প্রক্রিয়া চলছে, যাতে পুনরায় অভিযান না হয়।
এদিকে ইট তৈরির প্রধান উপাদান মাটি সরবরাহ করতে মাটি দূস্যরা রাতের আঁধারে ফসলি জমির টপ সয়েল কেঁটে ইট ভাটায় বিক্রি করছে। রাত নামতেই স্কেভেটর, পিকআপ গুলো দানবের আকৃতি ধারণ করে মাটি কাঁটা ও সরবরাহে। দেখে মনে হয় যেন সবকিছু উৎসব মেজাজে চলছে।
চলতি মৌসুমে অবৈধ ইটভাটার উৎপাদন ৩ মাস পেরিয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর নামমাত্র অভিযান চালিয়ে কিছু জরিমানা করে অবৈধ ইটের ভাটাকে বৈধতা দিয়েছেন বলে মনে করেন ফেনীর সচেতন মহল।

খোঁজ নিয়ে জানা যায় ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক(ডিডি) মোছাম্মৎ শওকত আরা কলি ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর ফেনী যোগদান করেন। এর পূর্বে তিনি কুমিল্লায় নিজ জেলায় কর্মরত ছিলেন। ফেনী যোগদানের পর থেকেই প্রতি মৌসুমে লোক দেখানো অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে দায় সারেন। অবৈধ ইটভাটা প্রসঙ্গে ফেনী পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছাম্মৎ শওকত আরা কলি বলেন, প্রয়োজনীয় লোকবল ও অর্থ সংকুলান এর কারণে অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
এ ব্যাপারে ফেনী জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান চলবে।
বাস্তবিক অর্থে জেলায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কার্যকর অভিযান দৃশ্যমান নয় বলে মনে করেন সচেতন মহল। বর্তমানে কোন রাজনৈতিক প্রভাব না থাকা সত্ত্বেও অদৃশ্য কারণে অবৈধ ইটভাটা চলমান রয়েছে। ইটভাটাগুলোতে জ্বালানি হিসেবে নিম্নমানের কয়লা ব্যবহার হয় এবং ছোট চিমনি ব্যবহারে ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ছাই ভাটার আশেপাশে উৎপাদিত কৃষি পণ্য ধান-গম-ডাল, শাকসবজি, ফলমূল নষ্ট করছে। পাশাপাশি মানবদেহে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভাটা থেকে নিঃসরিত দূষিত উপাদান মানব শরীরে প্রবেশ করে রেসপিরেটরি সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দে।
এতে ফুসফুসে ক্যান্সার, হার্ট অ্যাটাক ও অন্যান্য রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়। এমতাবস্থায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছেন এলাকার সচেতন মহল।

























