ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

২৬ জন ডাক্তারসহ শূন্য পদ ১৫৬টি চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত মতলব উত্তর উপজেলার সাধারণ মানুষ


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ২০৯১ বার পড়া হয়েছে

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: বঙ্গ সংবাদ

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবার নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে দীর্ঘদিন যাবত। চরাঞ্চল সমৃদ্ধ ১ পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের ৪লক্ষাধিক জনবসতির মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ২৬ জন চিকিৎসকসহ ১৫৬ জনের পদ শূন্য নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ফলে গ্রামীণ এই উপজেলার সাধারণ মানুষরা চিকিৎসা বঞ্চিত।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, এই উপজেলায় ৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১৫টি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, ৬টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ২টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ও ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।  তবে, ৩১ শয্যা বিশিষ্ট মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর প্রশাসনিক ভবন সহ সকল অবকাঠামো ৩ বছর যাবত নির্মিত হয়ে পড়ে থাকলেও এই হাসপাতালটি ৫০ শয্যা হাসপাতাল হিসেবে এখনো স্বীকৃতি পায়নি। তবে ৩১ শয্যার হিসাব মতেই বর্তমানে জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি, জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি, জুনিয়র কনসালটেন্ট এনিসথেসিয়া সহ ৪ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ২৬জন চিকিৎসক, ২৯ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ২৪ জন পরিবার কল্যাণ সহকারী, ১৩জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক পদ সহ ১৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

১৬ বছরের এই হাসপাতালে ১৪ বছরই ছিলনা গাইনি সার্জন ও এনেসথেসিয়া চিকিৎসক। ফলে দরিদ্র পরিবারের প্রসূতি মায়েরা সরকারি হাসপাতালের  চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। ডিজিটাল যুগে এনালগ এক্সরে মেশিন থাকলেও অপারেটর এর অভাবে ১৩ বছরই ছিল যা বাক্সবন্দী। ঘন ঘন নষ্ট হওয়া ও বারবার মেরামতের কারণে এই এক্সরে মেশিনটি এখন আর দরিদ্র রোগীদের তেমন কাজেই আসছে না। এই এক্সরে মেশিনের এক্সরে ফিল্ম দেখে চিকিৎসা করা প্রায় অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই হাসপাতালেরই একাধিক চিকিৎসক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ঔষধ স্বল্পতার কারণে দীর্ঘদিন অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা হচ্ছে বঞ্চিত।

১৬ বছরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪বছরই গাইনি সার্জন ও এনেস্থিসিয়া না থাকার কারণে স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালগুলো চলছে রমরমা। কেউ কেউ আবার এর নেপথ্যে স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর কারসাজি বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু লোক সিজারিয়ান অপারেশনের বিষয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোর সাথে সমন্বয় করে দেদারসে বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ের বোরচর থেকে গাইনি চিকিৎসকের কাছে আসা জরিনা আক্তার এর ভাই আলী হোসেন জানায়, ভাই আমরা গরীব মানুষ। আমার বইনের বাচ্চা হইবো। সরকারি হাসপাতালে আইছিলাম এনো বিলে অপারেশন অয় না। অহন প্রাইভেট হাসপাতালে যাওন লাগবো। প্রাইভেট হাসপাতালো অনেক খরচ, কেমনে চালামু কন?

এ বিষয়ে উপজেলার কলাকান্দা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কাদির মোল্লা জানান, প্রসূতি মায়েরা এই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সবিমুখ। কেননা, এখানে ডাক্তার নেই। তাই অপারেশন হয় না। অথচ দরিদ্র মায়েদের জন্যই এই সরকারি হাসপাতাল। এখানে গাইনি ডাক্তার থাকলে আমার এলাকার হানিরপাড়ের দরিদ্র মা তামান্নাকে ছেংগারচর প্রাইভেট হাসপাতালে সিজার করিয়ে সন্তান বিক্রি করে হাসপাতালের বিল মেটাতে হতো না।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মেহেদী হাসান নাহিদ বলেন, জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে জনবল সংকটের মধ্যদিয়েও আমরা আমাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছি।

৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাঈদ জানায়, চিকিৎসক সংকটের সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোন সুফল পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

২৬ জন ডাক্তারসহ শূন্য পদ ১৫৬টি চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত মতলব উত্তর উপজেলার সাধারণ মানুষ

আপডেট সময় : ০১:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় স্বাস্থ্য সেবার নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে দীর্ঘদিন যাবত। চরাঞ্চল সমৃদ্ধ ১ পৌরসভা ও ১৪ ইউনিয়নের ৪লক্ষাধিক জনবসতির মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগে ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও ২৬ জন চিকিৎসকসহ ১৫৬ জনের পদ শূন্য নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ফলে গ্রামীণ এই উপজেলার সাধারণ মানুষরা চিকিৎসা বঞ্চিত।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, এই উপজেলায় ৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ১৫টি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, ৬টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ২টি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ও ৪২টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।  তবে, ৩১ শয্যা বিশিষ্ট মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর প্রশাসনিক ভবন সহ সকল অবকাঠামো ৩ বছর যাবত নির্মিত হয়ে পড়ে থাকলেও এই হাসপাতালটি ৫০ শয্যা হাসপাতাল হিসেবে এখনো স্বীকৃতি পায়নি। তবে ৩১ শয্যার হিসাব মতেই বর্তমানে জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি, জুনিয়র কনসালটেন্ট মেডিসিন, জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি, জুনিয়র কনসালটেন্ট এনিসথেসিয়া সহ ৪ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ২৬জন চিকিৎসক, ২৯ জন স্বাস্থ্য সহকারী, ২৪ জন পরিবার কল্যাণ সহকারী, ১৩জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক পদ সহ ১৫৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

১৬ বছরের এই হাসপাতালে ১৪ বছরই ছিলনা গাইনি সার্জন ও এনেসথেসিয়া চিকিৎসক। ফলে দরিদ্র পরিবারের প্রসূতি মায়েরা সরকারি হাসপাতালের  চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। ডিজিটাল যুগে এনালগ এক্সরে মেশিন থাকলেও অপারেটর এর অভাবে ১৩ বছরই ছিল যা বাক্সবন্দী। ঘন ঘন নষ্ট হওয়া ও বারবার মেরামতের কারণে এই এক্সরে মেশিনটি এখন আর দরিদ্র রোগীদের তেমন কাজেই আসছে না। এই এক্সরে মেশিনের এক্সরে ফিল্ম দেখে চিকিৎসা করা প্রায় অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই হাসপাতালেরই একাধিক চিকিৎসক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ঔষধ স্বল্পতার কারণে দীর্ঘদিন অসহায় ও দরিদ্র রোগীরা হচ্ছে বঞ্চিত।

১৬ বছরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪বছরই গাইনি সার্জন ও এনেস্থিসিয়া না থাকার কারণে স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালগুলো চলছে রমরমা। কেউ কেউ আবার এর নেপথ্যে স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর কারসাজি বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু লোক সিজারিয়ান অপারেশনের বিষয়ে প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোর সাথে সমন্বয় করে দেদারসে বাণিজ্য করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড়ের বোরচর থেকে গাইনি চিকিৎসকের কাছে আসা জরিনা আক্তার এর ভাই আলী হোসেন জানায়, ভাই আমরা গরীব মানুষ। আমার বইনের বাচ্চা হইবো। সরকারি হাসপাতালে আইছিলাম এনো বিলে অপারেশন অয় না। অহন প্রাইভেট হাসপাতালে যাওন লাগবো। প্রাইভেট হাসপাতালো অনেক খরচ, কেমনে চালামু কন?

এ বিষয়ে উপজেলার কলাকান্দা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম কাদির মোল্লা জানান, প্রসূতি মায়েরা এই উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সবিমুখ। কেননা, এখানে ডাক্তার নেই। তাই অপারেশন হয় না। অথচ দরিদ্র মায়েদের জন্যই এই সরকারি হাসপাতাল। এখানে গাইনি ডাক্তার থাকলে আমার এলাকার হানিরপাড়ের দরিদ্র মা তামান্নাকে ছেংগারচর প্রাইভেট হাসপাতালে সিজার করিয়ে সন্তান বিক্রি করে হাসপাতালের বিল মেটাতে হতো না।

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মেহেদী হাসান নাহিদ বলেন, জনবল সংকটের কারণে স্বাস্থ্য সেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। তবে জনবল সংকটের মধ্যদিয়েও আমরা আমাদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছি।

৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু সাঈদ জানায়, চিকিৎসক সংকটের সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোন সুফল পাওয়া যায়নি।