সংযোগ সড়ক নির্মাণের দায়ে ইউএনও এবং চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা
- আপডেট সময় : ০৮:২৯:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ জুলাই ২০২৫
- / ২০৯৪ বার পড়া হয়েছে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং রাখালবুরুজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুর রহমান চৌধুরী ডিউকসহ ৭জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
০২ জুলাই বুধবার গোবিন্দগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে মামলাটির আপত্তি শুনানী শেষে আদালত আগামি ৭ জুলাই পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য্য করেন। এর আগে ওই আদালতে গত ১৫ জানুয়ারী গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের আইনজীবি সহকারী আকতারুজ্জামান প্রধানসহ ২১জন বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং রাখালবুরুজ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুর রহমান চৌধুরী ডিউকসহ ৭জনকে আসামী করে বিঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন মামলা নং-৬/২৫। ১নং বাদী আকতারুজ্জামান প্রধান তিনি উপজেলার রাখালবুরুজ ইউনিয়নের মাদারদহ (পশ্চিমপাড়া)গ্রামের মৃত আলাবক্স প্রধানের ছেলে।
মামলার সুত্রে জানা যায়, বিবাদীগণ গত ১২/০১/২০২৫ ইং তারিখে বাদীগণের স্বত্বদখলীয় নালিশী তপশীল বর্ণিত জমির মধ্য দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা নির্মাণ করিবে বলিয়া জোর পূর্বক বেদখল করার হুমকি প্রদর্শন করিয়া বাদীগণের ক্ষতি সাধন করিবে মর্মে পায়তারা করে। উক্ত রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে বিবাদীগণ বাদীগণের সহিত কোনরুপ আলাপ আলোচনা করে নাই, কোন নোটিশ প্রদান করে নাই, কোনরুপ অনুমতি গ্রহণ করে নাই কিংবা রাস্তা নির্মাণের নিমিত্তে জমি একোয়ারও করে নাই । সিএস বা বর্তমান জরীপের ম্যাপে নালিশী জমির উপর দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তাও চিহ্নিত নাই ৷ উল্লেখ্য যে, পূর্বেও তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান তপশীল বর্ণিত জোত জমির উপর দিয়া রাস্তা নির্মাণ করার অপচেষ্টা করিলে বাদীগণের মৌরশ/ভেন্ডর বাদী হইয়া তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ এর চেয়ারম্যান ও প্রজেক্ট কমিটির চেয়ারম্যান সহ দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা গণের বিরুদ্ধে অন্য ৩৪/৮৯ নম্বর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা দায়ের করিলে উক্ত মোকদ্দমায় দোতরফা সুত্রে গত ২৮/০২/১৯৯১ ইং তারিখে অত্র বাদীগণের মৌরশ/ভেন্ডর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ডিক্রী প্রাপ্ত হয়। বাদীগণ উক্ত ডিক্রীর বিষয় বর্তমান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহ মুল বিবাদীগণকে জ্ঞাত করিলেও মুল বিবাদীগণ তাহা না মানিয়া জোরপূর্বক ভাবে মোকাবিলা বিবাদীগণের সহযোগিতায় বাদীগণের স্বত্ব দখলীয় নালিশী তপশীল বর্ণিত জোত জমির মধ্য দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ রাস্তা নির্মাণ করিতে চেষ্টা করিতেছে।
সরেজমিনে জানা যায়, মালাবাদহ গ্রামটি তপসে খাল দ্বারা রাখালবুরুজ ইউনিয়ন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এটির বড় ভিটা নামক স্থানে একটি ব্রীজ বা সেতু নির্মান, যা মরহুম ফারাজ চেয়ারম্যান থাকাকালে ১৯৮৮-১৯৯০ সালের দিকে ফুটওভার ব্রীজ নির্মাণে এলজিইডির বরাদ দেয়। সে সময় মাদারসহ গ্রামের দু’একজনের সাথে তৎকালীন চেয়ারম্যানের মনোমালিন্য থাকায় এই ব্রীজটিও নির্মাণ করতে দেওয় হয়নি। সবশেষ রাখালবুরুজ ইউপি নির্বাচিত চেয়ারম্যান ডিউক চৌধুরী তার নির্বাচনি ওয়াদা পূরণে প্রাণান্ত চেষ্টায় ত্রান ও দুর্যোগ অধিদপ্তর থেকে পুনরায় ব্রীজের বরাদ্দ দেন। গত ২০২৩ সালে যা তপসে খালের চকমাকড় বড় ভিটা অংশে নির্মাণ শেষ হয়। সাম্প্রতি ওই ব্রীজের মাদারদহ বড়ভিটা অংশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হলে পূর্বের ন্যায় আবারও তাতে বাধ সাজে এক- দুজন।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ৬জন মালিকের জমির উপর দিয়ে সড়কটি নির্মাণাধীন। যার প্রায় ৫ জন জমির মালিকই চায় সড়কটি হোক; মাদারসহ গ্রামবাসীর শত বছরের দুঃখ ঘুচুক; ইউনিয়ন পরিষদের সাথে গ্রামটি সরাসরি সংযুক্ত হোক।
মামলার ১নং বাদী আক্তারুজ্জামান প্রধান জানান, ওই মৌজার বিভিন্ন ব্যক্তির মালিকানাধীন এক একর বার শতক জমির উপর দিয়ে প্রায় ২শ’ফুট কাঁচা সড়ক নির্মাণ করা হয়। এ ঘটনায় জমির মালিকরা ক্ষুব্ধহয়ে ইউএনও এবং রাখালবুরুজ ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুর রহমান চৌধুরী ডিউকসহ ৭জনকে অভিযুক্ত করে মামলাটি করা হয়।
আদালত সূত্রে জানাযায়,মামলা দায়েরের পর বিবাদীপক্ষ আদালতে উপস্থিত হয়ে গত ৬ মার্চ জবাব দাখিলের জন্য সময়ের আবেদন করলে আদালত গত ১৪ মে শুনানীর জন্য দিন ধার্য্য করেন। এর প্রেক্ষিতে ওই দিনই বিবাদীপক্ষের দাখিল করা আপত্তির ওপর শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু শুনানী চলাকালে দাখিলকৃত আপত্তির স্বপক্ষে বিবাদীপক্ষ কোন প্রমাণাদি উপস্থাপন না করায় আদালত মামলাটির পরর্বর্তী শুনানীর জন্য ৭ জুলাই ২০২৫ দিন ধার্য্য করেন।






















