ঢাকা ০৭:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

তিন মন্ত্রণালয় ও ছয় দপ্তরে নেই সচিব, আটকে আছে গুরুত্বপূর্ণ কাজ


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / ২১৩৯ বার পড়া হয়েছে

গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পাশাপাশি ছয়টি দপ্তর সচিবশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এসব পদে অতিরিক্ত সচিবরা কেবল রুটিন দায়িত্ব পালন করলেও পূর্ণ সচিব না থাকায় নীতিনির্ধারণী বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলে রয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম।

৬ মাস ধরে সচিব নেই প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে

গত বছরের ৬ নভেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাঈদ মাহবুব বেলাল হায়দারকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। এরপর ২০ নভেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদকে সেখানে বদলি করা হয়।

চেয়ারম্যানের কাজ যেমন মেম্বার দিয়ে হয় না, তেমনি সচিবের কাজও রুটিন দায়িত্বে সম্ভব নয়

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা

কিন্তু বদলির এক মাস নয়দিন পর অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর তাকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে (ছয় মাস) এই মন্ত্রণালয়ে কোনো পূর্ণ সচিব নেই। বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন।

এ প্রসঙ্গে এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘চেয়ারম্যানের কাজ যেমন মেম্বার দিয়ে হয় না, তেমনি সচিবের কাজও রুটিন দায়িত্বে সম্ভব নয়। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো ঝুলে থাকে।’

৩ মাস ধরে সচিব নেই সমবায় বিভাগে

গত ২৫ মার্চ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলামকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এ বিভাগেও পূর্ণ সচিব নিয়োগ হয়নি। অতিরিক্ত সচিব মো. ইসমাইল হোসেন রুটিন দায়িত্বে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সচিবশূন্য রয়েছে আরও ছয়টি দপ্তর। সেগুলো হলো- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব), জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সচিব), ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব)

২ মাস ধরে টেলিযোগাযোগ বিভাগে সচিব নেই

৩০ এপ্রিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. মুশফিকুর রহমান অবসর গ্রহণ করেন। এখন পর্যন্ত সেখানে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম।

আরও ছয় দপ্তরে সচিব নেই

এই তিন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ছাড়াও সচিবশূন্য রয়েছে আরও ছয়টি দপ্তর। সেগুলো হলো- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব), জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সচিব), ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব)।

এর মধ্যে গত ১৯ জুন একসঙ্গে চার সচিব- বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী এনামুল হাসান, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সচিব) সুকেশ কুমার সরকার, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মুহম্মদ ইবরাহিম ও জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মো. সহিদ উল্যাহকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

২৪ জুন দুদকের সচিব খোরশেদা ইয়াসমীনকে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়।

ডাক ও টেলযোগাযোগ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘প্রশাসনিকসহ সকল কার্যক্রম ঠিক রাখতে সচিবের উপস্থিতি অত্যাবশ্যক। আমাদের বিভাগ সচিবশূন্য অবস্থায় আছে। ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা চাই দ্রুত পূর্ণ সচিব নিয়োগ দেওয়া হোক।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

তিন মন্ত্রণালয় ও ছয় দপ্তরে নেই সচিব, আটকে আছে গুরুত্বপূর্ণ কাজ

আপডেট সময় : ০৩:৩৮:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের পাশাপাশি ছয়টি দপ্তর সচিবশূন্য অবস্থায় রয়েছে। এসব পদে অতিরিক্ত সচিবরা কেবল রুটিন দায়িত্ব পালন করলেও পূর্ণ সচিব না থাকায় নীতিনির্ধারণী বহু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলে রয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম।

৬ মাস ধরে সচিব নেই প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে

গত বছরের ৬ নভেম্বর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাঈদ মাহবুব বেলাল হায়দারকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। এরপর ২০ নভেম্বর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদকে সেখানে বদলি করা হয়।

চেয়ারম্যানের কাজ যেমন মেম্বার দিয়ে হয় না, তেমনি সচিবের কাজও রুটিন দায়িত্বে সম্ভব নয়

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা

কিন্তু বদলির এক মাস নয়দিন পর অর্থাৎ ২৯ ডিসেম্বর তাকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে (ছয় মাস) এই মন্ত্রণালয়ে কোনো পূর্ণ সচিব নেই। বর্তমানে অতিরিক্ত সচিব মো. তোফাজ্জেল হোসেন রুটিন দায়িত্ব পালন করছেন।

এ প্রসঙ্গে এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘চেয়ারম্যানের কাজ যেমন মেম্বার দিয়ে হয় না, তেমনি সচিবের কাজও রুটিন দায়িত্বে সম্ভব নয়। গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো ঝুলে থাকে।’

৩ মাস ধরে সচিব নেই সমবায় বিভাগে

গত ২৫ মার্চ পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলামকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এ বিভাগেও পূর্ণ সচিব নিয়োগ হয়নি। অতিরিক্ত সচিব মো. ইসমাইল হোসেন রুটিন দায়িত্বে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সচিবশূন্য রয়েছে আরও ছয়টি দপ্তর। সেগুলো হলো- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব), জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সচিব), ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব)

২ মাস ধরে টেলিযোগাযোগ বিভাগে সচিব নেই

৩০ এপ্রিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. মুশফিকুর রহমান অবসর গ্রহণ করেন। এখন পর্যন্ত সেখানে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত সচিব মো. জহিরুল ইসলাম।

আরও ছয় দপ্তরে সচিব নেই

এই তিন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ছাড়াও সচিবশূন্য রয়েছে আরও ছয়টি দপ্তর। সেগুলো হলো- দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব), জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সচিব), ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এবং জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব)।

এর মধ্যে গত ১৯ জুন একসঙ্গে চার সচিব- বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী এনামুল হাসান, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সচিব) সুকেশ কুমার সরকার, ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) মুহম্মদ ইবরাহিম ও জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) মো. সহিদ উল্যাহকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

২৪ জুন দুদকের সচিব খোরশেদা ইয়াসমীনকে অবসরোত্তর ছুটিতে যাওয়ার সুযোগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়।

ডাক ও টেলযোগাযোগ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘প্রশাসনিকসহ সকল কার্যক্রম ঠিক রাখতে সচিবের উপস্থিতি অত্যাবশ্যক। আমাদের বিভাগ সচিবশূন্য অবস্থায় আছে। ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা চাই দ্রুত পূর্ণ সচিব নিয়োগ দেওয়া হোক।’