পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু
- আপডেট সময় : ০১:২০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫
- / ২১৯৫ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় পানিতে ডুবে আপন দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার ৯নং কাশিমপুর ইউনিয়নের ঝনকা বটটেংগর গ্রামে নিজ বাড়ির পাশের একটি পুকুরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
মারা যাওয়া দুই শিশু হলো মোহাম্মদ ত্বকি (১৩) — গাবতলী স্কুলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র, এবং তার ছোট ভাই মোহাম্মদ আবরার হোসেন (৮), কালীবাড়ী চাইল্ডকেয়ার স্কুলের ছাত্র। তারা হাফেজ আব্দুল হালিম ও গৃহিনী আফরোজা বেগমের সন্তান।
ত্বকি সাঁতার শেখার প্রচুর আগ্রহ ছিলো স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে ত্বকি ও আবরার কাউকে না জানিয়ে সাঁতার শেখার উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের পুকুরে নামে বলে ধারনা করা হচ্ছে। পুকুর অনেক গভীর ও ঢাল না থাকায় এমনটা হতে পারে, তবে তারা কেউই সাঁতার জানত না। কিছুক্ষণ পর এক পথচারী পুকুরে ভাসমান দেহ দেখে ডাকাডাকি শুরু করলে স্থানীয়রা প্রথমে আবরারকে উদ্ধার করে। পরে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর পুকুরের গভীর থেকে ত্বকি’র নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর তাদের মুক্তাগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।
রবিবার সকাল ১০টায় ঝনকা ঈদগাহ মাঠে দুই ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় শত শত গ্রামবাসী, শিক্ষক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশগ্রহণ করেন। নিজের দুই সন্তানের জানাজায় ইমামতি করেন শোকাহত পিতা হাফেজ আব্দুল হালিম। জানাজায় শিশুদের রুহের মাগফিরাত এবং পরিবারের জন্য ধৈর্য প্রার্থনা করা হয়।
দুই শিশুর দাফন করা হয় তার দাদার কবরের পাশে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাবতলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক আবু হানিফ, শিক্ষক ফারুক মাষ্টার, রাজনৈতিক নেতা এনামুল হক এনাম, সুপার আব্দুর রশিদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন গোপ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এটি একটি অপমৃত্যু। আমরা ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখের সাথে গ্রহণ করছি।”
দুই সন্তানের অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি এখন নিঃস্ব। পুরো বটটেংগর গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এমন মর্মান্তিক ঘটনা যেন আর কোনো পরিবারের না ঘটে — এই কামনা করেছেন এলাকাবাসী।






















