ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পোশাকশিল্পে অস্থিরতা ঠেকাতে উৎপাদন অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে ফেনীতে বিএনপি নেতা লিংকনের সংবাদ সম্মেলন জামালপুরে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় যুব দিবস – ২০২৬ উদযাপিত বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস উদযাপন ময়মনসিংহে সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করার দাবিতে শ্যামনগরে টানা মানববন্ধন নেত্রকোনায় পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ : পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে গঠন হলো মজুরি বোর্ড দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ, চার দিন গ্যাস সংকটের আশঙ্কা

৭ মাসে ১৫৭১৭ শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার ১৩৬৭৯ জন


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৯:২৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ২১০২ বার পড়া হয়েছে

সারা দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৯টি। এখনও ২ হাজার ৩৮টি শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ বিষয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দাবি, শুধু নিখোঁজের সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি জনসমক্ষে উঠে আসেনি। কারণ, নিখোঁজ শিশুদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে উদ্ধার হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ জন শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং ৬৮ জন এখনও উদ্ধার করা যায়নি।

অন্যদিকে একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩ জন শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ১ হাজার ৯৭০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

সব মিলিয়ে সাত মাসে মোট ১৫ হাজার ৭১৭ জন নিখোঁজ শিশুর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন, যা প্রায় ১৩ শতাংশ।

পুলিশ আরও জানায়, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলে, নিজেদের পরিচয় বা ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফিরতে গিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়।

অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, পারিবারিক কলহ, বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব, স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা কিংবা পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্যান্য সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার মতো বিভিন্ন কারণ কাজ করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রেস রিলিজে বলা হয়, বর্তমানে পুলিশি সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু হওয়ায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি দায়েরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় এ ধরনের ঘটনার তথ্য আরও সহজে পুলিশের নথিভুক্ত হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, পূর্ববর্তী বছরগুলোর তথ্যেও নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ছিল। ২০২৩ সালে ১৭ হাজার ৮০৮টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি নিখোঁজ জিডি করা হয়।

পুলিশের মতে, নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে উদ্ধার হওয়া শিশুদের সংখ্যাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন। অন্যথায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণার জন্ম নিতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

৭ মাসে ১৫৭১৭ শিশু নিখোঁজ, উদ্ধার ১৩৬৭৯ জন

আপডেট সময় : ০৯:২৪:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারা দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ১৩ হাজার ৬৭৯টি। এখনও ২ হাজার ৩৮টি শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ বিষয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বার্তায় এসব তথ্য জানানো হয়।

পুলিশের দাবি, শুধু নিখোঁজের সংখ্যা প্রকাশিত হওয়ায় প্রকৃত পরিস্থিতি জনসমক্ষে উঠে আসেনি। কারণ, নিখোঁজ শিশুদের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে উদ্ধার হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানায়, স্থানীয় পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী ৪৭৪ জন শিশু নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং ৬৮ জন এখনও উদ্ধার করা যায়নি।

অন্যদিকে একই সময়ে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১৫ হাজার ২৪৩ জন শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ১ হাজার ৯৭০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

সব মিলিয়ে সাত মাসে মোট ১৫ হাজার ৭১৭ জন নিখোঁজ শিশুর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ জন, যা প্রায় ১৩ শতাংশ।

পুলিশ আরও জানায়, শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুরা সাধারণত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অপরিচিত স্থানে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলে, নিজেদের পরিচয় বা ঠিকানা বলতে না পারা কিংবা একা বাড়ি ফিরতে গিয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে নিখোঁজ হয়।

অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অভিমান, পড়ালেখার চাপ, পারিবারিক কলহ, বন্ধু বা সহপাঠীদের প্রভাব, স্বাধীন জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষা, অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে লজ্জার ভয়ে পালিয়ে থাকা কিংবা পরিবারের কাছ থেকে অর্থ বা অন্যান্য সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার মতো বিভিন্ন কারণ কাজ করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রেস রিলিজে বলা হয়, বর্তমানে পুলিশি সেবা সহজীকরণের অংশ হিসেবে অনলাইন জিডি সুবিধা চালু হওয়ায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি দায়েরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে আগের তুলনায় এ ধরনের ঘটনার তথ্য আরও সহজে পুলিশের নথিভুক্ত হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, পূর্ববর্তী বছরগুলোর তথ্যেও নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ছিল। ২০২৩ সালে ১৭ হাজার ৮০৮টি, ২০২৪ সালে ১৬ হাজার ৪১৪টি এবং ২০২৫ সালে ২২ হাজার ৫৫০টি নিখোঁজ জিডি করা হয়।

পুলিশের মতে, নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে উদ্ধার হওয়া শিশুদের সংখ্যাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন। অন্যথায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণার জন্ম নিতে পারে।