৬০০ টাকা থেকে শুরু, এখন মাসে আয় লাখ টাকা
ইউটিউব দেখে কাজ শিখে ধোবাউড়ায় ‘রিফাত কুটির শিল্প’ গড়ে তুলেছেন শহিদুল ইসলাম সবুজ
- আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ২০৮১ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার পূর্ব গামারীতলা ইউনিয়নের পূর্ব রায়পুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম সবুজ। মাত্র ৬০০ টাকা দিয়ে শুরু করেছিলেন কাজ। করোনাকালে ইউটিউব দেখে কাজ শেখার পর ধীরে ধীরে সেই কাজকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অভিজ্ঞতায় এখন তিনি সফল উদ্যোক্তা। বর্তমানে তাঁর মাসিক আয় প্রায় লাখ টাকা।
শহিদুল ইসলাম সবুজ (৪০)। তাঁর বাবা মো. আতাব আলী। করোনার সময় অন্যদের মতো তিনিও নানা সংকটের মুখে পড়েছিলেন।
তবে হাল ছেড়ে না দিয়ে ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও দেখে কাজ শেখার চেষ্টা করেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁর নতুন পথচলা।

শুরুতে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় কাজ করেন সবুজ। সেখানে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের পর নিজের এলাকায় ফিরে এসে কিছু করার পরিকল্পনা নেন। সেই পরিকল্পনা থেকেই নিজ গ্রামে গড়ে তোলেন ‘রিফাত কুটির শিল্প’ নামে ছোট একটি কারখানা।
বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠানে ১২ জন কাজ করছেন। অল্প পুঁজি ও সীমিত পরিসরে শুরু করা এই উদ্যোগ এখন তাঁর নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদেরও কাজের সুযোগ তৈরি করেছে।

শহিদুল ইসলাম সবুজ বলেন, আমি প্রথমে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় কাজ শুরু করি। পরে কাজ শিখে ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে নিজের গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসি। এরপর এখানে ‘রিফাত কুটির শিল্প’ নামে ছোট একটি কারখানা শুরু করি। বর্তমানে আমরা ১২ জন মিলে কাজ করছি। আমার ইচ্ছা, একদিন ১০০ জনের একটি পরিবার নিয়ে কাজ শুরু করব। ইনশাআল্লাহ, সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমি অল্প টাকা দিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। ধীরে ধীরে কাজ শিখেছি, পরিশ্রম করেছি এবং আজ আল্লাহর রহমতে ভালো অবস্থানে আসতে পেরেছি। আমার সবচেয়ে বড় ইচ্ছা হলো, আমার এলাকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মমতাজ বলেন, “সবুজ নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমে কাজ শিখে এলাকায় এসে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। এখানে কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাঁর এই উদ্যোগ আরও বড় হোক এবং এলাকার আরও মানুষ কাজের সুযোগ পাক এটাই আমরা চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা মোজিবুর রহমান বলেন, এটা আমাদের গ্রামের জন্য গর্বের বিষয়। শহিদুল ইসলাম সবুজ নিজের চেষ্টা ও পরিশ্রমে এতদূর এগিয়ে এসেছে। আমরা চাই তাঁর প্রতিষ্ঠান আরও বড় হোক। তাঁর মাধ্যমে গ্রামের আরও মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক।
স্থানীয়দের মতে, প্রত্যন্ত গ্রামে এমন উদ্যোগ কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অন্য তরুণদেরও উদ্যোক্তা হওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করতে পারে। আর শহিদুল ইসলাম সবুজের স্বপ্ন, ছোট পরিসরে শুরু করা তাঁর প্রতিষ্ঠান একদিন বড় কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত হবে।
৬০০ টাকা দিয়ে শুরু করা সেই পথচলা এখন লাখ টাকার আয়ের পর্যায়ে। তবে নিজের সাফল্যের পাশাপাশি আরও মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করাই এখন শহিদুল ইসলাম সবুজের প্রধান লক্ষ্য।






















