ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন আবু সাঈদের পরিবার


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৪:২২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২১২৮ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করে।

রায় ঘোষণার পর নিহত আবু সাঈদের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করে। আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, রায় দ্রুত কার্যকর হলে পরিবার স্বস্তি পাবে। একই দাবি জানান সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে শিগগির রায় কার্যকর করতে হবে। নিহতের মা মনোয়ারা বেগম মনে করেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। একমাত্র গ্রেফতার হওয়া আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আদালতে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন। তার জবানবন্দির ভিত্তিতে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জবানবন্দিতে তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে তাকে জানানো হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে, যাতে দেড় হাজার মানুষ নিহত ও প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল—
১. উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান
২. প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ
৩. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যা
৪. রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা
৫. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন আবু সাঈদের পরিবার

আপডেট সময় : ০৪:২২:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করে।

রায় ঘোষণার পর নিহত আবু সাঈদের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করে। আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, রায় দ্রুত কার্যকর হলে পরিবার স্বস্তি পাবে। একই দাবি জানান সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে শিগগির রায় কার্যকর করতে হবে। নিহতের মা মনোয়ারা বেগম মনে করেন, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন।

ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার তিন আসামির মধ্যে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। একমাত্র গ্রেফতার হওয়া আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আদালতে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হন। তার জবানবন্দির ভিত্তিতে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

জবানবন্দিতে তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে তাকে জানানো হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ঘটে, যাতে দেড় হাজার মানুষ নিহত ও প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল—
১. উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান
২. প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ
৩. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে হত্যা
৪. রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা
৫. আশুলিয়ায় ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যা

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে এবং শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।