ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ঢাকায় ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ স্থানগুলো


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২১০৬ বার পড়া হয়েছে

রাজধানী ঢাকার মানুষ বর্তমানে এক ধরনের মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ২১ নভেম্বর সকালে দেশের অভ্যন্তরে তীব্র ভূমিকম্পের পর থেকে রাজধানীবাসী আতঙ্কে রয়েছেন। নরসিংদীতে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হলে প্রায় ১৪ কোটি মানুষ এটি অনুভব করেন। এতে অন্তত ১০ জন মারা যান এবং কয়েকশ মানুষ আহত হন। পরদিন ২২ নভেম্বর, একই দিনে সকালে একবার এবং সন্ধ্যায় দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয় ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায়। সর্বশেষ, গত বৃহস্পতিবারও রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে।

এই পরিস্থিতিতে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগেছে: ঢাকায় কি কোনো নিরাপদ এলাকা আছে? ঘনবসতিপূর্ণ শহরে, যেখানে বহু ভবন বিধিমালা অমান্য করে নির্মিত, নিরাপদ জায়গা কোথায় তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সম্প্রতি জানিয়েছে, যদি টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে, তবে ঢাকার প্রায় ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে এবং দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার ভূতাত্ত্বিক অবকাঠামো এবং ফল্ট লাইনের অবস্থান মোটামুটি অনুকূলে থাকলেও, ভবন নির্মাণে অনিয়ম, ভরাট জমির প্রসার এবং অতিরিক্ত জনসংখ্যা শহরটিকে জটিল পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে।

ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকা নিরাপদ?
শহরের নিরাপত্তা নির্ধারণ করতে হলে ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং অবকাঠামোর দিকে নজর দিতে হবে। ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ঢাকার বেশিরভাগ উত্তর দিকের মাটি মধুপুরের লাল মাটির মতো শক্ত। রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান, তেজগাঁও—এই ধরনের এলাকা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।

তবে শুধুমাত্র ভূতাত্ত্বিক গঠনের ওপর নিরাপত্তা নির্ভর করছে না। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী জানান, কোন এলাকা নিরাপদ, কোনটি ঝুঁকিপূর্ণ তা শুধুমাত্র ভবনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব।

লাল মাটির এলাকা হলেও ঝুঁকি কেন?
শক্ত মাটির এলাকাগুলোও পুরোপুরি নিরাপদ নয়।

  • প্রথমত, সেখানে অনেক পুরোনো ভবন আছে যেগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।
  • দ্বিতীয়ত, কিছু ভবন মূলত দুই বা তিন তলার জন্য অনুমোদিত ছিল, কিন্তু পরে বহুতল হিসেবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। মূল ফাউন্ডেশন দুই তলার হলেও সাত তলা দাঁড়ানো এই ভবনগুলো অননুমোদিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
  • তৃতীয়ত, নতুন ভবনে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় হচ্ছে না।

ভরাট জমির ভবন পরিস্থিতি
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ডোবা ও জলাশয় ভরাট করে আবাসিক এলাকা তৈরি করা হয়েছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, আফতাবনগর এরকম এলাকা। এইসব জায়গার মাটি প্রাকৃতিকভাবে শক্ত নয়।

বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, এমন এলাকায় ভবন নির্মাণের আগে মাটিকে বহুতল ভবন ধারণ করার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় “গ্রাউন্ড ইম্প্রুভমেন্ট”। পাইল দেওয়ার পাশাপাশি মাটিকে ঠিকভাবে প্রস্তুত করা না হলে, দূরবর্তী ভূমিকম্পের কম্পনও ভবনের কম্পনের সঙ্গে মিলিত হয়ে ধ্বংস ঘটাতে পারে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ঢাকায় ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ স্থানগুলো

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানী ঢাকার মানুষ বর্তমানে এক ধরনের মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। ২১ নভেম্বর সকালে দেশের অভ্যন্তরে তীব্র ভূমিকম্পের পর থেকে রাজধানীবাসী আতঙ্কে রয়েছেন। নরসিংদীতে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হলে প্রায় ১৪ কোটি মানুষ এটি অনুভব করেন। এতে অন্তত ১০ জন মারা যান এবং কয়েকশ মানুষ আহত হন। পরদিন ২২ নভেম্বর, একই দিনে সকালে একবার এবং সন্ধ্যায় দুইবার ভূমিকম্প অনুভূত হয় ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায়। সর্বশেষ, গত বৃহস্পতিবারও রাজধানী ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে।

এই পরিস্থিতিতে মানুষের মনে প্রশ্ন জাগেছে: ঢাকায় কি কোনো নিরাপদ এলাকা আছে? ঘনবসতিপূর্ণ শহরে, যেখানে বহু ভবন বিধিমালা অমান্য করে নির্মিত, নিরাপদ জায়গা কোথায় তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সম্প্রতি জানিয়েছে, যদি টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে, তবে ঢাকার প্রায় ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে এবং দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার ভূতাত্ত্বিক অবকাঠামো এবং ফল্ট লাইনের অবস্থান মোটামুটি অনুকূলে থাকলেও, ভবন নির্মাণে অনিয়ম, ভরাট জমির প্রসার এবং অতিরিক্ত জনসংখ্যা শহরটিকে জটিল পরিস্থিতির মুখে ফেলেছে।

ভূমিকম্পে ঢাকার কোন এলাকা নিরাপদ?
শহরের নিরাপত্তা নির্ধারণ করতে হলে ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং অবকাঠামোর দিকে নজর দিতে হবে। ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ঢাকার বেশিরভাগ উত্তর দিকের মাটি মধুপুরের লাল মাটির মতো শক্ত। রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান, তেজগাঁও—এই ধরনের এলাকা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।

তবে শুধুমাত্র ভূতাত্ত্বিক গঠনের ওপর নিরাপত্তা নির্ভর করছে না। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী জানান, কোন এলাকা নিরাপদ, কোনটি ঝুঁকিপূর্ণ তা শুধুমাত্র ভবনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব।

লাল মাটির এলাকা হলেও ঝুঁকি কেন?
শক্ত মাটির এলাকাগুলোও পুরোপুরি নিরাপদ নয়।

  • প্রথমত, সেখানে অনেক পুরোনো ভবন আছে যেগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।
  • দ্বিতীয়ত, কিছু ভবন মূলত দুই বা তিন তলার জন্য অনুমোদিত ছিল, কিন্তু পরে বহুতল হিসেবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। মূল ফাউন্ডেশন দুই তলার হলেও সাত তলা দাঁড়ানো এই ভবনগুলো অননুমোদিত এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
  • তৃতীয়ত, নতুন ভবনে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার করা হচ্ছে, ফলে ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় হচ্ছে না।

ভরাট জমির ভবন পরিস্থিতি
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ডোবা ও জলাশয় ভরাট করে আবাসিক এলাকা তৈরি করা হয়েছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, আফতাবনগর এরকম এলাকা। এইসব জায়গার মাটি প্রাকৃতিকভাবে শক্ত নয়।

বুয়েটের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, এমন এলাকায় ভবন নির্মাণের আগে মাটিকে বহুতল ভবন ধারণ করার জন্য প্রস্তুত করতে হবে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় “গ্রাউন্ড ইম্প্রুভমেন্ট”। পাইল দেওয়ার পাশাপাশি মাটিকে ঠিকভাবে প্রস্তুত করা না হলে, দূরবর্তী ভূমিকম্পের কম্পনও ভবনের কম্পনের সঙ্গে মিলিত হয়ে ধ্বংস ঘটাতে পারে।