একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকের টাকা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া
- আপডেট সময় : ১২:৫৪:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২১৩০ বার পড়া হয়েছে
একীভূত প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচ ইসলামি ব্যাংকের আমানতকারীদের জমাকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহ থেকেই গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হতে পারে। প্রথম ধাপে আমানত বিমা তহবিল থেকে প্রতিজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পাবেন।
সমস্যাগ্রস্ত ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংক পিএলসি’ ইতোমধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। এই নতুন ব্যাংকই পাঁচ ব্যাংকের সমস্ত সম্পদ ও দায় গ্রহণ করবে।
কীভাবে টাকা পাবেন
টাকা ফেরতের নীতিমালা চূড়ান্ত করতে একটি বিশেষ স্কিম প্রণয়ন করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্কিম প্রকাশের পর গ্রাহকরা নিয়ম অনুযায়ী অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান,
- যেসব গ্রাহকের হিসাবে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আছে, তাঁরা চাইলে পুরো অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
- যাঁদের হিসাবে দুই লাখ টাকার বেশি আছে, প্রথম পর্যায়ে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা দেওয়া হবে।
- অতিরিক্ত আমানতের বিষয়ে পরে আলাদা সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে, এবং অবশিষ্ট টাকার মুনাফার হার নতুন করে নির্ধারণ করা হবে।
অর্থাৎ পাঁচ ব্যাংকের প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর সবাই প্রথম ধাপে পুরো টাকা পাচ্ছেন না। জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় আপাতত ছোট গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়াই প্রধান লক্ষ্য।
টাকা পেতে যেসব শর্ত
অর্থ ফেরতের জন্য গ্রাহকদের কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে—
১. একজন ব্যক্তির একই ব্যাংকে একাধিক হিসাব থাকলে কেবল একটি হিসাবের বিপরীতে অর্থ পাবেন। জাতীয় পরিচয়পত্রে তাঁর নামে হিসাব নিবন্ধিত থাকতে হবে।
২. বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে খোলা হিসাবধারীরাই অর্থ ফেরত পাবেন।
৩. একজন গ্রাহকের পাঁচ ব্যাংকে পৃথক পাঁচটি হিসাব থাকলে প্রতিটির বিপরীতে টাকা দেওয়া হবে।
৪. কোনো আমানতের বিপরীতে ঋণ থাকলে অর্থ ফেরত স্থগিত থাকবে; ঋণ সমন্বয়ের পর ফেরতের সিদ্ধান্ত হবে।
৫. অবশিষ্ট টাকার ওপর নতুন মুনাফার হার প্রযোজ্য হবে।
খরচ হবে ১২ হাজার কোটি টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ঠিক করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা—এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি দিচ্ছে সরকার এবং ১৫ হাজার কোটি আসবে আমানত বিমা তহবিল থেকে। অনুমোদিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।
সরকার ইতোমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে, বাকি অর্থ ধাপে ধাপে মূলধন হিসেবে প্রদান করা হবে।
নতুন ব্যাংক পরিচালনায় বিশেষ উদ্যোগ
নতুন ব্যাংককে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শীর্ষ পর্যায়ে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও সৎ কর্মকর্তাদের নিয়োগ, আন্তর্জাতিক মানের নীতিমালা প্রণয়ন এবং গ্রাহক আস্থা পুনর্গঠনে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকার মতিঝিলের সেনাকল্যাণ ভবনে সম্মিলিত ইসলামি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় চালু হয়েছে। সরকারের সাবেক ও বর্তমান আমলাদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। শিগগিরই স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়ে পর্ষদকে আরও সক্ষম করে তোলা হবে।




























