বে টার্মিনাল নির্মাণে অগ্রগতির অভাব, বছরে ক্ষতি ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার
- আপডেট সময় : ১২:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১২৫ বার পড়া হয়েছে
বে টার্মিনাল নির্মাণে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার করে বছরে অন্তত ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার সম্ভাব্য আয় হারাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরসহ বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে সময় গড়ানোর ফলে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার এমন প্রতিবেদনের পর চলতি বছরেই বে টার্মিনাল প্রকল্পের নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে তৎপরতা শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা জটিলতা ও সিদ্ধান্তহীনতায় পতেঙ্গা উপকূলবর্তী বে টার্মিনাল প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। জমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন ও বিনিয়োগকারী সংকটই প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বে টার্মিনাল নির্মাণ না হলে ভবিষ্যতে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি প্রতিবছর অন্তত ৩৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে দেশ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ডলার ক্ষতি হচ্ছে, যা বছরে দাঁড়ায় ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার। বে টার্মিনাল যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যাবে, তত বেশি অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হবে।’
প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নযোগ্য বে টার্মিনাল প্রকল্পের প্রাথমিক ধাপে মেরিন অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্রেকওয়াটার নির্মাণ ও এক্সেস চ্যানেল ড্রেজিংয়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্রেকওয়াটার নির্মাণের জন্য ঋণচুক্তি অনুযায়ী বিশ্বব্যাংক ৬৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় করেছে। নির্ধারিত সময় শেষে এই ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ শুরু হবে। সে কারণে চলতি বছরের মাঝামাঝির মধ্যেই নির্মাণকাজ শুরু করতে চায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক ওমর ফারুক জানান, জার্মানভিত্তিক একটি কনসালটেন্ট প্রতিষ্ঠান বর্তমানে এই প্রকল্পের কাজ করছে। তাদের প্রতিবেদন হাতে পেলেই পরবর্তী ধাপ হিসেবে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী মে-জুনের মধ্যেই টেন্ডার ফ্লোট করা সম্ভব হবে।
বঙ্গোপসাগরের পতেঙ্গা উপকূলবর্তী প্রায় ৮৫০ একর জায়গাজুড়ে বে টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি এই অঞ্চলকে একটি শক্তিশালী বিজনেস হাব হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৬ সালে বে টার্মিনাল অপারেশনে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তা পিছিয়ে এখন ২০৩০ সাল নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে কার্যক্রম শুরু করেছে। পাশাপাশি লালদিয়ায় একটি স্বতন্ত্র টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কভিত্তিক মায়ার্স্ক গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এপি মুলারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাবেক সদস্য জাফর আলম বলেন, ‘বে টার্মিনালের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার সময় এপি মুলার, পিসিটি কিংবা মাতারবাড়ি বন্দর প্রকল্প ছিল না। বর্তমান বাস্তবতায় বে টার্মিনালের জন্য পর্যাপ্ত কার্গো ভলিউম থাকবে কি না, তা নতুন করে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।’
বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বে টার্মিনালের তিনটি অংশের মধ্যে একটি অংশ নির্মাণ করবে সিঙ্গাপুর পোর্ট অথরিটি, দ্বিতীয় অংশে থাকবে দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ড এবং তৃতীয় অংশটি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নির্মাণ করবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।




























