আমরা শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপ খেলতে চাই, দল রেডি আছে: বুলবুল
- আপডেট সময় : ০৬:১২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১০১ বার পড়া হয়েছে
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে হলে ভারতে গিয়েই খেলতে হবে—এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে জানিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। গতকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর সভা শেষে এই অবস্থান জানায় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বাংলাদেশকে একদিনের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়, যা এখন শেষ পর্যায়ে।
এই প্রেক্ষাপটে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিসিবি এবং বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের নিয়ে বৈঠক করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বৈঠক শেষে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে সরকার অনড় রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ তাদের অবস্থান থেকে সরে আসছে না। ‘হয় ভারতে গিয়ে খেলতে হবে, নতুবা অন্য দল দিয়ে প্রতিস্থাপিত হতে হবে’—আইসিসির এমন বাস্তবতায় দ্বিতীয় পথেই হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ। বৈঠক শেষে ক্রীড়া উপদেষ্টা জানান, সরকারের দৃষ্টিতে ভারত সফরে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে। এক মাসের মধ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে—আইসিসির এমন আশ্বাসে সরকার আস্থা রাখতে পারছে না বলেও জানান তিনি।
তবে পুরোপুরি আশা ছাড়তে নারাজ বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্যের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় বুলবুল জানান, শ্রীলঙ্কায় গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে তারা এখনও আগ্রহী এবং এ দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
বিসিবি সভাপতি বলেন, “আমরা আমাদের মতো করে চেষ্টা চালিয়ে যাব। এখনও আমরা হাল ছাড়ছি না। আজ আরও কিছু বিষয় নিয়ে আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ করব এবং চেষ্টা করে যাব, যেন আমাদের ছেলেরা বিশ্বকাপ খেলতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের একটাই চাওয়া—আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই। এই মুহূর্তে আমরা ভারতে খেলতে যেতে চাই না। আমরা শ্রীলঙ্কার মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে প্রস্তুত। আমাদের দল সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছে।”
আইসিসির সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গে বুলবুল জানান, ভারতের আপত্তির কারণে হাইব্রিড পদ্ধতিতে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজনের নজিরও তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, “গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি দেশ (ভারত) নিরাপত্তাজনিত কারণে টুর্নামেন্টে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। সে সময় সরকারের অনুমতি নিয়ে আইসিসিকে জানানো হলে তাদের জন্য নিউট্রাল ভেন্যুর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে, একই হোটেলে থেকে তারা পুরো টুর্নামেন্ট খেলেছিল—এটা ছিল একটি বিশেষ সুবিধা।”
তিনি যোগ করেন, “যেহেতু নিরাপত্তা ও সরকারের অনীহার কারণে হাইব্রিড মডেল প্রয়োগ করা হয়েছিল, আমরা সেই যুক্তিতেই আইসিসিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমাদের আবেদন খারিজ করা হয়েছে। তবুও আজ আবার চেষ্টা করব—আর কী কী পথ আইসিসির সামনে তুলে ধরা যায়।”




























