ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
শ্যামনগরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে সংখ্যালঘুর জমি দখল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী

নৌ উপদেষ্টার গাড়ি অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, বন্দর চেয়ারম্যান অপসারণের দাবি


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৮৯ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় নৌপরিবহণ উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার কিছু আগে বন্দর কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে বের হওয়ার সময় কাস্টমস মোড় এলাকায় উপদেষ্টার গাড়িবহর অবরোধ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নৌ উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের বন্দর ভবনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর বন্দরের চলমান সংকট ও শ্রমিকদের দাবি নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন নৌপরিবহণ উপদেষ্টা।

জানা গেছে, নৌপরিবহণ উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পৌনে ১১টার দিকে তাকে বহনকারী গাড়িবহর বন্দর ভবনের অদূরে কাস্টমস মোড়ে পৌঁছায়। এ সময় সামনে ও পেছনে পুলিশের নিরাপত্তার গাড়ি ছিল। উপদেষ্টার পেছনের গাড়িতে ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান।

উপদেষ্টার আগমনের খবরে সকাল থেকেই আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী ৪ নম্বর জেটি গেট থেকে কাস্টমস মোড়সহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা অন্যান্য দিনের তুলনায় কঠোর অবস্থানে ছিলেন।

গাড়িবহর কাস্টমস মোড়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে আশপাশে অবস্থান নেওয়া শ্রমিক-কর্মচারীরা স্লোগান দিতে দিতে রাস্তায় নেমে এসে গাড়ি আটকে দেন। একপর্যায়ে নৌ উপদেষ্টা গাড়ি থেকে নেমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবির জবাবে নৌ উপদেষ্টা বলেন, “আমি চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্সে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেছি। দেশের ক্ষতি হয়—এমন কিছু আমি কখনোই চাই না।”

এ সময় আন্দোলনকারীরা চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবি জানান। আন্দোলনকারী ইব্রাহীম খোকন বলেন, “আমি ৩২ বছর ধরে এই বন্দরে কাজ করছি। আমরা চাই চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো ধরনের মাফিয়া কার্যক্রম না থাকুক। গত দেড় বছরে চেয়ারম্যান আমাদের বিরুদ্ধে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই, যা তিনি নেননি। দেখা করতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।”

আন্দোলনকারীরা আরও দাবি জানাতে চাইলে নৌ উপদেষ্টা পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনার আশ্বাস দেন।

প্রায় ১৫ মিনিট পর পুলিশ নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে নৌ উপদেষ্টাসহ গাড়িবহরকে বন্দর ভবনের ভেতরে নিয়ে যায়। এ সময় মূল ফটক বন্ধ করার চেষ্টা করা হলেও শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী স্লোগান দিতে দিতে বন্দর ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

নৌ উপদেষ্টার গাড়ি অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, বন্দর চেয়ারম্যান অপসারণের দাবি

আপডেট সময় : ০১:৪৬:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় নৌপরিবহণ উপদেষ্টার গাড়ি আটকে বিক্ষোভ করেছেন আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার কিছু আগে বন্দর কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে বের হওয়ার সময় কাস্টমস মোড় এলাকায় উপদেষ্টার গাড়িবহর অবরোধ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নৌ উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের বন্দর ভবনের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর বন্দরের চলমান সংকট ও শ্রমিকদের দাবি নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন নৌপরিবহণ উপদেষ্টা।

জানা গেছে, নৌপরিবহণ উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেন বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। পৌনে ১১টার দিকে তাকে বহনকারী গাড়িবহর বন্দর ভবনের অদূরে কাস্টমস মোড়ে পৌঁছায়। এ সময় সামনে ও পেছনে পুলিশের নিরাপত্তার গাড়ি ছিল। উপদেষ্টার পেছনের গাড়িতে ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান।

উপদেষ্টার আগমনের খবরে সকাল থেকেই আন্দোলনরত শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী ৪ নম্বর জেটি গেট থেকে কাস্টমস মোড়সহ আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বন্দরের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা অন্যান্য দিনের তুলনায় কঠোর অবস্থানে ছিলেন।

গাড়িবহর কাস্টমস মোড়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে আশপাশে অবস্থান নেওয়া শ্রমিক-কর্মচারীরা স্লোগান দিতে দিতে রাস্তায় নেমে এসে গাড়ি আটকে দেন। একপর্যায়ে নৌ উপদেষ্টা গাড়ি থেকে নেমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।

শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবির জবাবে নৌ উপদেষ্টা বলেন, “আমি চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্সে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেছি। দেশের ক্ষতি হয়—এমন কিছু আমি কখনোই চাই না।”

এ সময় আন্দোলনকারীরা চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবি জানান। আন্দোলনকারী ইব্রাহীম খোকন বলেন, “আমি ৩২ বছর ধরে এই বন্দরে কাজ করছি। আমরা চাই চট্টগ্রাম বন্দরে কোনো ধরনের মাফিয়া কার্যক্রম না থাকুক। গত দেড় বছরে চেয়ারম্যান আমাদের বিরুদ্ধে এমন কোনো ব্যবস্থা নেই, যা তিনি নেননি। দেখা করতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।”

আন্দোলনকারীরা আরও দাবি জানাতে চাইলে নৌ উপদেষ্টা পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনার আশ্বাস দেন।

প্রায় ১৫ মিনিট পর পুলিশ নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করে নৌ উপদেষ্টাসহ গাড়িবহরকে বন্দর ভবনের ভেতরে নিয়ে যায়। এ সময় মূল ফটক বন্ধ করার চেষ্টা করা হলেও শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী স্লোগান দিতে দিতে বন্দর ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।