চট্টগ্রাম বন্দর ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তি নিয়ে নতুন বার্তা দিলেন আশিক চৌধুরী
- আপডেট সময় : ০৬:৫০:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২১০৫ বার পড়া হয়েছে
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কাতারভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা চুক্তি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
আশিক চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা প্রসঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে। রোববার প্রতিষ্ঠানটি একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে চলমান আলোচনার বিষয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
তবে চুক্তির শর্তাবলি পর্যালোচনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের আরও সময় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ কারণে আলোচনা চলমান থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও সময় লাগবে বলে জানান বিডা চেয়ারম্যান।
তিনি বলেন, “আমাদের হাতে এখনো মাত্র দুই কার্যদিবস সময় রয়েছে। ফলে আশা করছি, এই আলোচনা বর্তমান সরকার ও আসন্ন নির্বাচন পরবর্তী সময়েও অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে একটি ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।”
এদিকে এনসিটি ইজারা না দেওয়ার দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। কর্মসূচি শুরুর পর চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
কর্মবিরতির কারণে জেটি, ইয়ার্ড, টার্মিনাল, প্রশাসনিক ভবন ও বহির্নোঙর (আউটার লাইটারেজ)সহ বন্দরের সব এলাকায় পণ্য খালাস ও পরিচালন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খোকন বলেন, “সকাল ৮টা থেকে বন্দরের সব ধরনের কাজ বন্ধ রয়েছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।”
এর আগে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন শুরু করে বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। পরে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে তারা আন্দোলন চালিয়ে আসছে। অবস্থান কর্মসূচি, কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন বন্দরের শ্রমিকরা।
প্রসঙ্গত, দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯১ শতাংশই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সম্পন্ন হয়। টানা আন্দোলন ও কর্মসূচির কারণে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রপ্তানি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি রমজানকে সামনে রেখে আমদানি পণ্য খালাস ব্যাহত হলে এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়েও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা।




























