চেয়ার কোনো প্রতিদানের আশায় নয়, এটি ভালোবাসা শ্রদ্ধার প্রতীক হিসাবে ‘তারেক রহমানকে’ উপহার দিব
- আপডেট সময় : ০৪:৩২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৩১৭ বার পড়া হয়েছে
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ীর কৃষক মো. আব্দুল মোতালেব সিংহাসন আকৃতির চেয়ার বানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য। ইতিমধ্যে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এতে অনেকেই বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও কেউ কেউ নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। তবে এই চেয়ার কোনো প্রতিদানের আশায় নয়, বরং এটি ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধার প্রতীক হিসাবে উপহার বলে দাবি করেছেন কৃষক মো. আব্দুল মোতালেব।
ঘটনার নেপথ্যের কারণ হিসেবে মোতালেব বলেন, সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ১৯৯৮ সালে আমি সৌদি আরবে শ্রমিক ভিসায় কাজে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে ২০০১ সাল পর্যন্ত খেজুর বাগানে কাজ শুরু করি। তখন সৌদি আরবে বসে শুনেছিলাম আমার দেশের নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দুই ঋতুর মরুভূমির দেশে নিম গাছ লাগিয়েছিলেন। আজও সেই নিম গাছ হাজীদের ছায়া দেয়। তখন আমি মনে মনে চিন্তা করেছিলাম মরুর দেশে যদি নিম গাছ হয়, তাহলে বাংলাদেশে কেন সৌদি আরবের খেজুর হবে না। মূলত এই বিশ্বাস থেকেই সৌদি আরব থেকে স্যুাটকেস ভর্তি করে ৩৫ কেজি বীজ নিয়ে এসে দেশের মাটিতে খেজুর চাষ শুরু করি।
এরপর পত্রিকায় আমার বাগানে সৌদি আরবের খেজুর ফলেছে খবর দেখে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২০০৪ সালের ১৬ জুন ছুটে আসেন আমার বাগনে। তখন তিনি প্রায় ১ ঘণ্টা আমার বাগানে অবস্থান করে ঘুরে দেখেন সব কিছু। কিন্তু তখন আমি তাকে ভালো কোনো চেয়ারে বসতে দিতে পারিনি। তার এই আগমন আমাকে এই কাজে আরও বেশি উৎসাহিত করেছিল। আজ আমি সফল হয়েছি। তাই আশা করছি তারেক রহমান দেশে ফিরলে আবারও আমার বাগানে আসবেন। আর এ আশা নিয়েই আমি তারেক রহমানের জন্য এই ময়ূর সিংহাসন আকৃতির চেয়ারসহ আসবাব বানিয়েছি।
জানা যায়, তারেক রহমানের জন্য তৈরি করা চেয়ার ছাড়াও রয়েছে আরও একটি ময়ূর সিংহাসন। এর মধ্যে তারেক রহমানের জন্য তৈরি করা চেয়ারটি ৯৫ কিউবিক ফিট বা কেবি কাঁঠাল কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও ৯০ কিউবিক ফিট বা কেবি কাঁঠাল কাঠ দিয়ে তৈরি করেছেন আরও ১টি চেয়ার। সঙ্গে তৈরি করেছেন একটি বিশালবহুল খাট, ডাইনিং টেবিল এবং দুটি রাজকীয় কাঠের পাখা। দৃষ্টিনন্দন এসব আসবাবপত্র এখন রক্ষিত রয়েছে কৃষক মোতালেবের বাড়িতে।
সূত্র জানায়, ২০০৮ সাল থেকে চেয়ারসহ কয়েকটি কাঠের জিনিসের নির্মাণকাজ শুরু হয়। এগুলো নির্মাণ করেন সুজন নামে একজন কাঠমিস্ত্রি। তিনি ভালুকার গতিয়ার বাজার এলাকার অমূল্যের ছেলে। সুজন মিয়া খেজুর বাগানে কাজ করার পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যার পর চেয়ার তৈরির কাজ করেন। চেয়ার তৈরি শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতি মাসে ১২ হাজার টাকা চুক্তিতে রাজি হওয়ায় সুজনকেই কাজ দেন মোতালেব।
আব্দুল মোতালেব দাবি করেন, তারেক রহমানের জন্য নির্মাণ করা চেয়ারের করা নকশা বাংলাদেশের আর কোনো চেয়ারে নেই। কারণ মোতালেব নিজেই চেয়ারের নকশা করেছিলেন। চেয়ার তৈরির পর নকশার কাগজ ছিড়ে ফেলে দেন। যেন এমন চেয়ার আর কেউ বানাতে না পারেন।






















