অটোরিকশার পাশে পরেছিল চালকে মরদেহ , আহত যুবক পুলিশ হেফাজতে
- আপডেট সময় : ০৩:০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
- / ২২১৫ বার পড়া হয়েছে
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে এক অটোরিকশা চালক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে আদমপুর-দুল্লী সড়কের দুল্লী সেতুর পাশ থেকে চালকের রক্তাক্ত মরদেহ ও পাশেই পড়ে থাকা রক্তমাখা অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ। একই স্থান থেকে আহত অবস্থায় এক যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহতের নাম নূরুজ্জামান (৩৫)। তিনি কেন্দুয়া উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাচহার বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত মোগলচানের ছেলে। আহত যুবকের নাম অলি মিয়া (২৫), তিনি রাঘবপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্র ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে নিজের সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন নূরুজ্জামান। রাত ১১টার পর কেন্দুয়া পৌর শহরের জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত সিএনজি স্টেশন থেকে তিনজন পুরুষ ও একজন নারী যাত্রী নিয়ে তিনি রওনা হন আদমপুর-দুল্লী সড়কে। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
রাত প্রায় তিনটার দিকে দুল্লী সেতুর পাশে এক পথচারী তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হলে বুধবার সকালে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের কাছেই তার ব্যবহৃত অটোরিকশাটি রক্তমাখা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা গাড়িতে ওঠে এবং চালক নূরুজ্জামানকে হত্যা করে। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া যুবক অলি মিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে বলেও জানান কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান।
এদিকে নিহত নূরুজ্জামানের মৃত্যুতে তার পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সাত সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন নূরুজ্জামান। তার আয়ে চলত পুরো পরিবার। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র ভরসা।
তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি এখন দিশেহারা। শোকসন্তপ্ত স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে বাড়ির আঙিনা। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হোক।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।






















