গোবিন্দগঞ্জের মানহীন ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও নেওয়া হয় না কোনো ব্যবস্থা আর কত ব্যবসা করবে এই ক্লিনিক গুলো, আর কত লাশ হবে সাধারণ মানুষ – এই প্রশ্ন ভুক্তভোগী সহ সচেতন মহলের
- আপডেট সময় : ০৩:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৪২৮ বার পড়া হয়েছে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সকল ক্লিনিকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অনুমোদনবিহীন, মানহীন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং প্যাথলজি ল্যাব গুলো বন্ধ করতঃ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আবেদন করলেও ব্যবস্থা গ্রহন করেন নাই গাইবান্ধার সিভিল সার্জন।
আবেদন সুত্রে জানা, গাইবান্ধার সিভিল সার্জন বরাবর গত ২২-০৪-২০২৫ ইং তারিখে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সকল ক্লিনিকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে অনুমোদনবিহীন, মানহীন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং প্যাথলজি ল্যাব গুলো বন্ধ করতঃ তাদের বিরুদ্ধে আইনগত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নিউজের কপি, অভিযোগের কপি,মামলার কপি সংযুক্ত করে আবেদন করেন বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার বাসিন্দা ওয়াজেদ আলী।
অভিযোগে উল্লেখ্য যে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের কাছেই ১০০ গজের মধ্যে এবং গোবিন্দগঞ্জ পৌরশহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের বিভিন্ন অলি-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার,এক্স-রে ও প্যাথলজি ল্যাব। ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠা বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক গুলোর অধিকাংশেরই নেই অনুমোদন। অনুমোদন রয়েছে এমন সব হাসপাতাল ক্লিনিক ও ল্যাবেও রয়েছে নানা অব্যবস্থাপনা। হাতেগোনা দু-একটি ছাড়া অনুমোদিত সবকটি হাসপাতাল ও ল্যাব চলছে সব নিয়ম ও শর্ত অমান্য করে। উপজেলার ক্লিনিক ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার নিয়মিত পরিদর্শন বা তদারকির নিয়ম থাকলেও তা চোখে পড়ে না। আর এই সুযোগে নামসর্বস্ব কাগুজে ডাক্তারের আড়ালে ক্লিনিকগুলো সেবা নিয়ে বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। এসব ক্লিনিকে নেই স্থায়ী কোনো আবাসিক চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার, নেই ক্যাটাগরী অনুযায়ী প্যাথলজি, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি ও রেডিওলজি বিশেষজ্ঞ, নেই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ নার্স। প্রশিক্ষণবিহীন নার্স দিয়েই চলে রোগীর চিকিৎসাসেবা। ডাক্তার, দক্ষ জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছাড়া চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ায় অনেক সময় ঘটছে দুর্ঘটনা। স্বাস্থ্য বিভাগের নাকের ডগায় গড়ে ওঠা এসব ক্লিনিক ও ল্যাবে ভুল চিকিৎসাসহ রোগীরা প্রতিনিয়ত লাশ উপহার সহ প্রতারিত হলেও কোনও প্রতিকার মিলছে না। এসব অবৈধ চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে ভুল চিকিৎসার ফলে ঘটছে রোগীর মৃত্যু সহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনাও। এ উপজেলায় নামমাত্র কাগুজে ডাক্তারে (অদৃশ্য চিকিৎসকে) চলমান ক্লিনিকগুলোতে অনকলে গাইবান্ধা-রংপুর-বগুড়া-দিনাজপুর থেকে আসা চিকিৎসকদের দৌরাত্ব বেড়েছে, যার ফলে রোগীর শারীরিক অবস্থার কোন খোঁজ খবর না নিয়েই ভাড়ায় এসে রোগীর পেট কেটে প্রাপ্য বুঝে নিয়ে চলে যাচ্ছেন। প্রসব বেদনা থেকে বাঁচতে আর নিরাপদে সন্তান জন্মের আশায় এসব ক্লিনিকে প্রাণ হারাচ্ছেন মায়েরা। উপজেলার বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকের অবহেলা, ভুয়া চিকিৎসক আর অব্যবস্থাপনায় প্রতিনিয়তই বিভিন্ন অপারেশনের রোগীসহ, প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যুর সংবাদ প্রায়ই পাওয়া যায় গনমাধ্যমে।
সাম্প্রতিক ঘটনা গোবিন্দগঞ্জ কমিউনিটি হাসপাতালে হাজী ক্লিনিকে ভুয়া সার্জন সেজে অপারেশনে শরিফা নামে এক মহিলা এখন মৃত্যশয্যায়। গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার দক্ষিণ বাস স্ট্যান্ডের পাশে কমিউনিটি হাসপাতাল হাজী ক্লিনিকে ভুয়া সার্জারী বিশেষজ্ঞ সেজে সিজারিয়ান সহ বিভিন্ন সার্জারী অপারেশন করে আসছেন হাজী ক্লিনিকের এম এ হাবিব তথাকথিত ডাক্তার, যে কিনা প্যারামেডিক্স কিন্তু পরিচয়ের বেলায় অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন সেজে হাবিব সহ একটি চক্র দীর্ঘদিন থেকে সিজার সহ বিভিন্ন সার্জারী অপারেশন করে আসছে। কেউ কথা বললেও কোন কাজ হয় না। তার অপচিকিৎসার কারনে ইতিপূর্বেও রোগী অকালে মারা গেছে। সর্বশেষ গত ৩ আগষ্ট এই অপচিকিৎসার শিকার হন ভুক্তভোগী গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার বর্ধনকুঠির মোছাঃ শরিফা বেগম। সে এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। শরিফার সিজার করে ওই তথাকথিত সার্জারী ডাক্তার হাবিব। কিন্তু ২৫ দিন পার হলেও শরিফা এখনও সুস্থ না হয়ে দিন দিন মৃত্যুর প্রহর গুনছে। আর এই তথাকথিত ডাক্তার হাবিব কে চিকিৎসায় সহযোগিতা করছে গোবিন্দগঞ্জ সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার ফরহাদ আলী এবং প্রাইভেট প্র্যাকটিশনার ডাক্তার তৌহিদা ইয়াসমিন সোমা। ডাক্তার ফরহাদ এবং সোমা, ঘটনার দিন শুধুমাত্র তাদের নাম ব্যবহারের জন্য টাকা নিয়েছে আর অপারেশন করেছে হাবিব এইমর্মে গোবিন্দগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর আগেও এই ক্লিনিকের বিরুদ্ধে এর চেয়েও গুরুতর অভিযোগ প্রমানিত হলেও তেমন কোন শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি।
উল্লেখ্য যে পূর্বের একাধিক মৃত্যুর গ্লানি ঢাকতে ‘সততা’নাম পরিবর্তন করে সততা এখন নতুন ‘সমতা’নামে গত ৫ মার্চ (বুধবার) ২০২৫ইং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম চৌমাথায় অবস্থিত “সমতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার”এ ভুল চিকিৎসায় সিজারের সময় প্রসূতির মৃত্যু হয়। জানা যায় উপজেলার কামদিয়া ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের শাহারুল ইসলামের মেয়ে এবং কোচাশহর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর (কানাইপাড়া) গ্রামের রানা শেখের স্ত্রী শারমিন আক্তারের বুধবার দুপুরে প্রসব বেদনা উঠলে পরিবারের লোকজন তাকে সিজার করার উদ্দেশ্যে পশ্চিম চৌমাথায় অবস্থিত সমতা ক্লিনিকে নিয়ে এসে ভর্তি করায়। কর্তৃপক্ষ অনকলে ডেকে আনেন চিকিৎসক, সেখানে ডাঃ লাবিব হাসান, ডাঃ হাবিব, ক্লিনিকের পরিচালক রেশমিতারা মিলে অপারেশন করেন। অপারেশন থিয়েটারে তার অপারেশন চলাকালে সে মারা যায়। এ ঘটনার পরপরই চিকিৎসক ও ক্লিনিকের পরিচালক গা ঢাকা দেন। তদন্ত করে শারমিনের মৃত্যুর সাথে জড়িত ক্লিনিকের পরিচালক ও কর্তব্যরত চিকিৎসকসহ নার্সদের বিচার দাবী জানিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় বিভিন্ন শিরোনামে নিউজ প্রকাশিত হলে ১১ই মার্চ ৪ সদস্যর তদন্ত কমিটি করে ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোট দাখিল করার কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। দিব্বি চালাচ্ছেন ক্লিনিক। ইতিপূর্বেও বেশ কয়েকটি ক্লিনিকে সিজারে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিতও হয়েছে। তবে সব-সময়ই ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ অর্থের জোরে বিষয়গুলো ধামাচাপা দিয়ে আসছে। বে-সরকারি চিকিৎসা সেবার নামে উপজেলাজুড়ে চিকিৎসক ও ক্লিনিকগুলো কসাইখানা খুলে বসার ফলে প্রায়ই প্রাণ যাচ্ছে নিরীহ রোগীদের। শারমিনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ৭ই মার্চ (শুক্রবার) ২০২৫ইং গোবিন্দগঞ্জ থানাধীন হাসপাতাল মোড় সংলগ্ন রংপুর হাইওয়ে রোড বাজাজ শো-রুমের উপরের তলার মর্ডান ক্লিনিকের মালিক ১। মোঃ মাহাবুর রহমান (৬৫), পিতা মৃত আইয়ুব আলী, ২। মোঃ নুর আমিন (৪৫), পিতা মোঃ মাহাবুর রহমান, ৩। মোছাঃ মুন্নী খাতুন (৪০) (ডিএমএফ), স্বামী মোঃ নুর আমিন, সর্ব সাং-রাখালবুরুজ (দরগাপাড়া), ইউ.পি-রাখালবুরুজ, থানাঃ গোবিন্দগঞ্জ, জেলাঃ গাইবান্ধা’গণ সহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনকে আসামী করে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন অত্র উপজেলাধীন ৬নং দরবস্ত ইউনিয়নের রহলা গ্রামের মৃত শহিতুল্ল্যাহর ছেলে হাফিজার রহমান বাদী হয়ে। অভিযোগের পেক্ষিতে ৬০,০০০/- টাকায় মিমাংসা হয় এছাড়াও সিটি জেনারেল হাসপাতাল এন্ড কনন্সালটেশন সেন্টারের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় রোগী মারা যাওয়ার ঘটনার ডাক্তার সোমার নামে হত্যা মামলা চলমান।
আর কত ব্যবসা করবে এই ক্লিনিক গুলো, আার কত লাশ হবে সাধারণ মানুষ – এই প্রশ্ন ভুক্তভোগী সহ সচেতন মহলের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সচেতন মহল জানান আমরা মাঝে মধ্যে দেখতে পাই বিভিন্ন ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনিষ্টিক সেন্টারের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় যতসামান্য কয়েক হাজার টাকা করে জরিমানা ও একই সাথে প্রতিষ্ঠানগুলিকে ভ্রাম্যমান আদালত সিলগালা করে দেয় আবার পরের দিনই দেখা যায় আইন ও কর্মকর্তাদের নির্দেশকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় এবং স্বাস্থ্য বিভাগের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে মাসোহারা করে চালু রাখছে। সচেতন মহল দাবি জানান, এমন অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে অনুমোদনের কাগজপত্র যাচাই করতঃ বিভিন্ন অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা অনুমোদনবিহীন, মানহীন অসংখ্য প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্যাথলজি ল্যাব গুলোকে সিলগালা করে মালিককে কারাদন্ড দিয়ে যন্ত্রপাতি ধ্বংশ করে দেওয়া হয় তাহলে পরবর্তীতে খোলার সাহস পাবে না আর রোগী ও স্বজনেরা কোনও ধরনের প্রতারণার শিকার হবে না, প্রাণ হারাবে না রোগীরা।
গোবিন্দগঞ্জ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বলেন, আমরা অনুমোদনহীন হাসপাতাল ক্লিনিক ল্যাব বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ চাইলে অনুমোদনহীন ও মানহীন হাসপাতাল ক্লিনিক ল্যাব সিলগালা করে বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে রোগী ও স্বজনেরা কোনও ধরনের প্রতারণার শিকার হবে না বলেও জানান তিনি।
গাইবান্ধা জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ রফিকুজ্জামান জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলার অনুমোদনবিহীন প্রাইভেট ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ল্যাবের তালিকা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে তালিকা ধরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দ্রুত এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের রেজিস্ট্রেশন যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনিয়মের প্রমাণ পেলে এগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।






















