ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিক নির্যাতন ও নৃশংস হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০৯:৫২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২৫৫৯ বার পড়া হয়েছে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংবাদিক নির্যাতন ও নৃশংস হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সদর পৌর মুক্তমঞ্চ থেকে টি এ রোড মঠের গোড়া পর্যন্ত এ মানববন্ধন ও সমাবেশের আয়োজন করে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব। এতে অংশ নেয় সদর উপজেলা প্রেসক্লাবসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ।
উক্ত শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে প্রায় দুই শতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধন কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি সাংবাদিক এনামুল হক আরিফ।
সঞ্চালনা করেন জাতীয় দৈনিক সরেজমিনের বার্তা প্রধান আলম পালোয়ান।
প্রধান বক্তা হিসেবে বিশেষ বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপজেলা শাখার সভাপতি, দৈনিক তিতাস বার্তার সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী সম্পাদক এম এ মতিন সানু।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, সারা দেশের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়াতেও সাংবাদিকরা নানাভাবে নির্যাতন, হামলা, হুমকি ও ভয়ভীতির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সিনিয়র-সহসভাপতি ও জাতীয় দৈনিক বঙ্গ সংবাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি সিনিয়র সাংবাদিক অলি উল্লাহ খান এর উপর সন্ত্রাসী কায়দায় অতর্কিত হামলা করে মারাত্মকভাবে আহত করে। পরবর্তীতে তাকে অন্যান্য সাংবাদিকরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করে। সাংবাদিক মোঃ অলিউল্লাহ খান আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। তার ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় আক্রমণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রেস ক্লাবের সর্বস্তরের সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
কথিত সাংবাদিক ইয়াছিন মাহমুদ যার কোন নেই পর্যাপ্ত পরিমাণ শিক্ষাগত যোগ্যতা।। এই কথিত সাংবাদিক ইয়াসিন মাহমুদের লাগাতার হুমকি ও অপপ্রচারের লিপ্ত রয়েছে।
এই ইয়াসের মাহমুদ হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লার ছোট ভাই, যার প্রভাব প্রতিপত্তি খাঁটি এসে নানান অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাংলাদেশ প্রেস ক্লাবের সভাপতি এনামুল হক আরিফ বলেন, “ইয়াছিন মাহমুদ সাংবাদিকতার আড়ালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, দালালি ও অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও পর্নোগ্রাফি আইনে ইতোমধ্যে চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।” তিনি আরও হুশিয়ারি দেন, প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে বাংলাদেশ প্রেসক্লাব আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।
প্রবীণ সাংবাদিক ও দৈনিক তিতাস বার্তার প্রধান নির্বাহী সম্পাদক এম এ মতিন সানু বলেন, “ইয়াছিন মাহমুদকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় না আনলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। সাংবাদিকরা যেন নির্ভয়ে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করতে পারে তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।”
এ সময় সাংবাদিক নেতা কালাম বলেন, “আমরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা চাই। সাংবাদিকরা যেন মুক্তভাবে ও স্বাধীনভাবে সংবাদ উপস্থাপন করতে পারে সে জন্য সরকারের প্রধানের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, কথিত অপসাংবাদিক ইয়াছিনের মাহমুদ এর চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের হাত থেকে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত রক্ষা পাচ্ছে না। এমনকি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত বাখরাবাদ গ্যাস ফিল কোম্পানিও তার চাঁদাবাজির শিকার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, স্বনামধন্য বাখরাবাদ গ্যাস ফিল কোম্পানি ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে, যা বর্তমানে আদালতে চলমান রয়েছে।
এ সময় অন্যান্য বক্তারাও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপন ব্যাহত হবে, যা গণতন্ত্র ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, সাংবাদিকদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপসাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে।
বিক্ষোভ সমাবেশে আখাউড়া, বিজয়নগর, সরাইলসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দও অংশ নেন।






















