ঢাকা ০৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

কসবা হাটখোলা থেকে পাইকোড়া: সড়ক নয়, যেনো ধানের জমি!


মোঃ সুমন আলী, নাচোল প্রতিনিধি।
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
  • / ২২৭৯ বার পড়া হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার, কসবা ইউনিয়নের কসবা হাটখোলা বাজার হইতে পাইকোড়া পর্যন্ত রাস্তার বেহাল অবস্থা।দেখার যেন কেউ নেই।ছোট, ছোট বাচ্চাদের হাঁটু কাঁদা মাড়িয়ে যেতে হয় স্কুলে। এই গ্রামের পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে খাটে করে কাঁধে তুলে দুই কিলোমিটার কাঁদাপথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে কিংবা ক্লিনিকে। এমন দুর্ভোগের চিত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের কসবা,পাইকোড়া গ্রামীণ সড়কে। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তাটি পাকা না হলেও অন্তত চলাচলের উপযোগী করে তোলা হোক। তা না হলে দিনকে দিন কষ্ট বেড়েই চলেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কসবার হাটখোলা বাজার থেকে পাইকোড়া পর্যন্ত এই সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। গত ১৫ বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এমপি-চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির কাছে ধরনা দিয়েও আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাননি। এতে কসবা, পাইকোড়া ও গোলাবাড়ী গ্রামের অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে।

বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটা যায়না কাঁদাতে। যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে অনেকদিন থেকে। পথচারীরা লুঙ্গি বা প্যান্ট হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে, হাতে স্যান্ডেল নিয়ে চলাচল করেন। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের বই-খাতা কাঁদায় নষ্ট হয়ে যায় প্রায়ই।

উজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন,আমাদের অনেক কষ্টে স্কুলে যেতে হয়।বাজার থেকে ১ কিলোমিটার কাঁদাপথ পাড়ি দিয়ে ক্লাস করতে স্কুলে আসা লাগে।এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে আমি নিজেই অনেকবার পড়ে গিয়ে পোশাক নোংরা করেছি,সেই নোংরা পোশাক নিয়েই অনেক কষ্টে ক্লাস করেছি।অন্তত ছোট,ছোট বাচ্চাদের দিকে চেয়ে হলেও এই রাস্তাটি অতি দ্রুত পাঁকা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সেরাজুল ইসলাম জানান, এখানে একটি স্কুল,একটি মাদ্রাসা, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক এতো সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকার পরেও রাস্তা হয়না, রাস্তাটি কেনো হচ্ছে না আমার বুজে আসেনা।আমার মেয়ের জামাইরা এই রাস্তার কারণে শশুর বাড়ী বেড়াতে আসেনা এমনকি খোঁজ নিয়ে দেখেন এই রাস্তার কারণে অনেক যুবতী মেয়ের বিয়েও হয়না। এ বিষয়ে কসবা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়া আল মেহরাব বলেন, ‘রাস্তাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ, বারবার চেষ্টা চালাচ্ছি রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য। সেখানকার বাসিন্দারা আমাকে ভাঙাড়ি ফেলার জন্য বলছিল কিন্তু সেখানে ভাঙাড়ি ফেললে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হবে, তাই করা হয়নি। ভবিষ্যতে পিচ কার্পেটিং কিংবা এইচবিবি সড়ক করার চিন্তাভাবনা আছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

কসবা হাটখোলা থেকে পাইকোড়া: সড়ক নয়, যেনো ধানের জমি!

আপডেট সময় : ০৪:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার, কসবা ইউনিয়নের কসবা হাটখোলা বাজার হইতে পাইকোড়া পর্যন্ত রাস্তার বেহাল অবস্থা।দেখার যেন কেউ নেই।ছোট, ছোট বাচ্চাদের হাঁটু কাঁদা মাড়িয়ে যেতে হয় স্কুলে। এই গ্রামের পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে খাটে করে কাঁধে তুলে দুই কিলোমিটার কাঁদাপথ পাড়ি দিয়ে যেতে হয় হাসপাতালে কিংবা ক্লিনিকে। এমন দুর্ভোগের চিত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের কসবা,পাইকোড়া গ্রামীণ সড়কে। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তাটি পাকা না হলেও অন্তত চলাচলের উপযোগী করে তোলা হোক। তা না হলে দিনকে দিন কষ্ট বেড়েই চলেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কসবার হাটখোলা বাজার থেকে পাইকোড়া পর্যন্ত এই সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। গত ১৫ বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এমপি-চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন জনপ্রতিনিধির কাছে ধরনা দিয়েও আশ্বাস ছাড়া কিছুই পাননি। এতে কসবা, পাইকোড়া ও গোলাবাড়ী গ্রামের অন্তত ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে।

বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটা যায়না কাঁদাতে। যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে আছে অনেকদিন থেকে। পথচারীরা লুঙ্গি বা প্যান্ট হাঁটু পর্যন্ত গুটিয়ে, হাতে স্যান্ডেল নিয়ে চলাচল করেন। স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের বই-খাতা কাঁদায় নষ্ট হয়ে যায় প্রায়ই।

উজিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বলেন,আমাদের অনেক কষ্টে স্কুলে যেতে হয়।বাজার থেকে ১ কিলোমিটার কাঁদাপথ পাড়ি দিয়ে ক্লাস করতে স্কুলে আসা লাগে।এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে আমি নিজেই অনেকবার পড়ে গিয়ে পোশাক নোংরা করেছি,সেই নোংরা পোশাক নিয়েই অনেক কষ্টে ক্লাস করেছি।অন্তত ছোট,ছোট বাচ্চাদের দিকে চেয়ে হলেও এই রাস্তাটি অতি দ্রুত পাঁকা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সেরাজুল ইসলাম জানান, এখানে একটি স্কুল,একটি মাদ্রাসা, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক এতো সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকার পরেও রাস্তা হয়না, রাস্তাটি কেনো হচ্ছে না আমার বুজে আসেনা।আমার মেয়ের জামাইরা এই রাস্তার কারণে শশুর বাড়ী বেড়াতে আসেনা এমনকি খোঁজ নিয়ে দেখেন এই রাস্তার কারণে অনেক যুবতী মেয়ের বিয়েও হয়না। এ বিষয়ে কসবা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়া আল মেহরাব বলেন, ‘রাস্তাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ, বারবার চেষ্টা চালাচ্ছি রাস্তাটি সংস্কার করার জন্য। সেখানকার বাসিন্দারা আমাকে ভাঙাড়ি ফেলার জন্য বলছিল কিন্তু সেখানে ভাঙাড়ি ফেললে রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হবে, তাই করা হয়নি। ভবিষ্যতে পিচ কার্পেটিং কিংবা এইচবিবি সড়ক করার চিন্তাভাবনা আছে।