ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়ে অবশেষে দুর্বল হলো ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ১১:৫৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২০৯২ বার পড়া হয়েছে

ক্যারিবীয় অঞ্চলে শতাব্দীর ভয়াবহ তাণ্ডব চালানোর পর ঝড় ‘মেলিসা’ এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। শক্তিশালী এই ঝড়ে জ্যামাইকা, কিউবা ও হাইতিতে কমপক্ষে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা অ্যাকুয়েদার।

মেলিসার সর্বোচ্চ বেগ ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি ছিল, যা আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া সংস্থা অ্যাকুওয়েদার।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) ঝড়বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যান-ক্লেয়ার ফন্টান বলেন, জ্যামাইকার জন্য এটি শতাব্দীর ঝড়। এতো শক্তিশালী আঘাত দেশটি আগে কখনও দেখেনি।

গত ২৮ অক্টোবরে ক্যাটাগরি–৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় হিসেবে জ্যামাইকার দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানে ‘মেলিসা’। এটি ১৯৮৮ সালের পর দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়। এতে বাড়িঘর, সড়ক ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) অ্যাকুয়েদার জানায়, শুধু পশ্চিম ক্যারিবীয় অঞ্চলেই ক্ষতির পরিমাণ ৪৮-৫২ বিলিয়ন ডলার।

জ্যামাইকার সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৯ জন নিহত হয়েছেন, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছেন চার লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ। হাইতিতে ৩১ জন নিহত ও ২০ জন নিখোঁজ, এর মধ্যে শুধু দক্ষিণাঞ্চলের পেটি-গোয়ে এলাকায় একটি নদী উপচে পড়ে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১০ শিশু। সর্বশেষ ঝড়টি ১২০ মাইল প্রতি ঘণ্টা বেগে বাতাস এবং প্রবল বৃষ্টিপাত চালিয়ে যেতে থাকে।

কিউবায় ঝড়টি ক্যাটাগরি–৩ মাত্রায় দুর্বল হয়ে আঘাত হানে। সেখানে বড় কোনো প্রাণহানি না হলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও গণ-উচ্ছেদ হয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ক্যারিবীয় পরিচালক ব্রায়ান বোগার্ট ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর বলেন, মাঠের অবস্থা একেবারেই বিপর্যস্ত ও ভয়াবহ।

আবহাওয়া সংস্থা অ্যাকুওয়েদারের হিসাব অনুযায়ী, মেলিসা প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি করেছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রতিবেশী হাইতিতে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, মূলত বন্যায় ভেসে গিয়ে।
কিউবায় প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হলেও প্রাণহানি ঘটেনি।

মেলিসা এবারের মৌসুমে চতুর্থ ঘূর্ণিঝড় যা ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে ভয়াবহ শক্তি অর্জন করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড়গুলোকে আরও দ্রুত ও বিধ্বংসী করে তুলছে। ‘র‌্যাপিড ইনটেনসিফিকেশন’ বা দ্রুত শক্তিবৃদ্ধির এই প্রবণতা জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব।

সূত্র: রয়টার্স,

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়ে অবশেষে দুর্বল হলো ঘূর্ণিঝড় ‘মেলিসা’

আপডেট সময় : ১১:৫৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

ক্যারিবীয় অঞ্চলে শতাব্দীর ভয়াবহ তাণ্ডব চালানোর পর ঝড় ‘মেলিসা’ এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। শক্তিশালী এই ঝড়ে জ্যামাইকা, কিউবা ও হাইতিতে কমপক্ষে ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থা অ্যাকুয়েদার।

মেলিসার সর্বোচ্চ বেগ ঘণ্টায় ২৫০ কিলোমিটারেরও বেশি ছিল, যা আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে আবহাওয়া সংস্থা অ্যাকুওয়েদার।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) ঝড়বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অ্যান-ক্লেয়ার ফন্টান বলেন, জ্যামাইকার জন্য এটি শতাব্দীর ঝড়। এতো শক্তিশালী আঘাত দেশটি আগে কখনও দেখেনি।

গত ২৮ অক্টোবরে ক্যাটাগরি–৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় হিসেবে জ্যামাইকার দক্ষিণ উপকূলে আঘাত হানে ‘মেলিসা’। এটি ১৯৮৮ সালের পর দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়। এতে বাড়িঘর, সড়ক ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) অ্যাকুয়েদার জানায়, শুধু পশ্চিম ক্যারিবীয় অঞ্চলেই ক্ষতির পরিমাণ ৪৮-৫২ বিলিয়ন ডলার।

জ্যামাইকার সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ১৯ জন নিহত হয়েছেন, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন রয়েছেন চার লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ। হাইতিতে ৩১ জন নিহত ও ২০ জন নিখোঁজ, এর মধ্যে শুধু দক্ষিণাঞ্চলের পেটি-গোয়ে এলাকায় একটি নদী উপচে পড়ে ২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ১০ শিশু। সর্বশেষ ঝড়টি ১২০ মাইল প্রতি ঘণ্টা বেগে বাতাস এবং প্রবল বৃষ্টিপাত চালিয়ে যেতে থাকে।

কিউবায় ঝড়টি ক্যাটাগরি–৩ মাত্রায় দুর্বল হয়ে আঘাত হানে। সেখানে বড় কোনো প্রাণহানি না হলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও গণ-উচ্ছেদ হয়েছে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ক্যারিবীয় পরিচালক ব্রায়ান বোগার্ট ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর বলেন, মাঠের অবস্থা একেবারেই বিপর্যস্ত ও ভয়াবহ।

আবহাওয়া সংস্থা অ্যাকুওয়েদারের হিসাব অনুযায়ী, মেলিসা প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি করেছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে প্রতিবেশী হাইতিতে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, মূলত বন্যায় ভেসে গিয়ে।
কিউবায় প্রায় ৭ লাখ ৩৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হলেও প্রাণহানি ঘটেনি।

মেলিসা এবারের মৌসুমে চতুর্থ ঘূর্ণিঝড় যা ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে ভয়াবহ শক্তি অর্জন করেছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, উষ্ণ সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড়গুলোকে আরও দ্রুত ও বিধ্বংসী করে তুলছে। ‘র‌্যাপিড ইনটেনসিফিকেশন’ বা দ্রুত শক্তিবৃদ্ধির এই প্রবণতা জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব।

সূত্র: রয়টার্স,