সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে: প্রধান উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০৩:১৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ২২৩৪ বার পড়া হয়েছে
আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “সব দিক বিবেচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট সম্পন্ন হবে। এতে সংস্কার কার্যক্রমের গতি ব্যাহত হবে না, বরং নির্বাচন আরও উৎসবমুখর ও ব্যয় সাশ্রয়ী হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা জানান, গণভোট আয়োজনে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে।
জুলাই সনদের আলোকে গণভোটের ব্যালটে উপস্থাপনীয় প্রশ্নও নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। প্রশ্নটি হবে—
“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?”
এর সঙ্গে চারটি মূল বিষয় যুক্ত থাকবে—
ক) নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় গঠন করা হবে।
খ) সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট—জাতীয় নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে; সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন লাগবে।
গ) নারীর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, বিরোধী দলের ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকারের বিকেন্দ্রীকরণসহ জুলাই সনদে ঐকমত্য হওয়া ৩০টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
ঘ) জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।
গণভোটে ভোটাররা এই চারটি বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট ‘হ্যাঁ’ হলে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে, যারা সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করবে। এরপর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে উচ্চকক্ষ গঠন করা হবে, যার মেয়াদ থাকবে নিম্নকক্ষের শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত।”


























