গত ৪৪ দিনে অন্তত ৫০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে; প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক শ ফিলিস্তিনি
- আপডেট সময় : ০১:৫৩:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
- / ২০৯৫ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত ৪৪ দিনে অন্তত ৪৯৭ বার চুক্তি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল—এমন দাবি করেছে গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর। একের পর এক হামলায় নিহত হয়েছেন কয়েক শ ফিলিস্তিনি। গত শনিবার প্রকাশিত দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ মোট ৩৪২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
গতকাল এক বিবৃতিতে দপ্তরটি জানিয়েছে, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। শুধু গতকালই ২৭ বার যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের ঘটনা ঘটে। এ দিন ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ২৪ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৮৭ জন আহত হয়েছেন। এসব লঙ্ঘনের মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিণতির জন্য ইসরায়েলকেই দায়ী করা হয় বিবৃতিতে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের দায় হামাসের। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গাজায় ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামাসের এক যোদ্ধা সেনাদের ওপর হামলা চালানোর পর ইসরায়েল পাল্টা অভিযান চালায় এবং এতে হামাসের পাঁচ শীর্ষ সদস্য নিহত হয়।
হামাস অবশ্য ইসরায়েলের দাবি নাকচ করে বলেছে, যাঁদের নিহত বলে উল্লেখ করা হচ্ছে, তাঁদের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে। সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য ইজ্জাত আল-রিশেক বলেন, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে অকার্যকর করতে নানা অজুহাত সৃষ্টি করছে এবং আবারও গণবিধ্বংসী হামলার দিকে এগোচ্ছে। তিনি মধ্যস্থতাকারী ও যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
গাজা নগরী থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজজুম জানান, “যুদ্ধবিরতি কার্যত কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ; বাস্তবে ইসরায়েলি বাহিনী অব্যাহতভাবে বিমান হামলা চালাচ্ছে।” এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, গাজার উত্তরাঞ্চলে বহু পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে আছে, কারণ ইসরায়েলি বাহিনী চুক্তি লঙ্ঘন করে গভীর এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে অনুমোদিত হলেও জরুরি খাদ্য, ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে ইসরায়েল কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে।



























