জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী ঘনিষ্ঠজনের হাতে প্রাণ হারাচ্ছেন
- আপডেট সময় : ০৪:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
- / ২১৫৪ বার পড়া হয়েছে
জাতিসংঘ সোমবার নারীর প্রতি সহিংসতা ও নারীহত্যার বিরুদ্ধে অগ্রগতির অভাবের নিন্দা জানিয়ে জানিয়েছে, গত বছর বিশ্বের কোথাও না কোথাও প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী তার ঘনিষ্ঠজনের হাতে খুন হয়েছেন।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক কার্যালয় এবং নারী সংস্থা যৌথভাবে আন্তর্জাতিক নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা নির্মূল দিবসের প্রেক্ষিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রায় ৫০ হাজার নারী ও মেয়েকে তাদের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যরা হত্যা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত নারীর ৬০ শতাংশকে তার সঙ্গী বা আত্মীয় হত্যা করেছে, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা মাত্র ১১ শতাংশ।
১১৭টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে ১৩৭ নারী নিহত হচ্ছে, অর্থাৎ প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী মারা যাচ্ছে। প্রতিবেদনে এই পরিসংখ্যানকে নারীর প্রতি সহিংসতা ও লিঙ্গভিত্তিক অপরাধের ভয়াবহতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
যদিও ২০২৪ সালের সংখ্যা ২০২৩ সালের তুলনায় সামান্য কম, তবে এটি কোনো প্রকৃত হ্রাস নির্দেশ করে না। গবেষকরা বলছেন, ‘নারী নির্যাতনজনিত হত্যাকাণ্ড প্রতি বছর হাজার হাজার নারী ও মেয়ের জীবন কেড়ে নিচ্ছে এবং কোন উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হলো ঘর।’
বিশ্বের কোনো অঞ্চলই নারী হত্যার ক্ষেত্র থেকে মুক্ত নয়। তবে আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি—প্রায় ২২ হাজার—নারী হত্যা হয়েছে।
জাতিসংঘের নারী নীতি বিভাগের পরিচালক সারাহ হেন্ড্রিক্স বলেন, ‘নারী হত্যা একক ঘটনা নয়; এটি প্রায়শই ধারাবাহিক সহিংসতার অংশ, যা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ, হুমকি এবং অনলাইনসহ হয়রানির মধ্য দিয়ে শুরু হয়।’
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কিছু ক্ষেত্রে নারী ও মেয়ের প্রতি সহিংসতা আরও বাড়িয়েছে, যেমন অনিচ্ছাকৃত ছবি শেয়ারিং, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস বা ডক্সিং এবং ডিপফেক ভিডিও। হেন্ড্রিক্স বলেন, ‘আমাদের এমন আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করতে হবে যা অনলাইন ও অফলাইনে নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা চিহ্নিত করে এবং অপরাধীদের কঠোরভাবে জবাবদিহি নিশ্চিত করে।’



























