ঢাকা ০৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

শাহজালাল ভল্ট কাণ্ড: সম্পদ চুরির ঘটনায় বিমানের গড়িমসি ও গোপনীয়তার অভিযোগ


জুবায়ের শাহরিয়ার
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ২০৮৭ বার পড়া হয়েছে

প্রতিকী ছবি

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভল্ট থেকে চুরি হওয়া সম্পদের তালিকা এখনও প্রকাশ করেনি বিমান বাংলাদেশ। ঘটনার ৩২ দিন পেরোলেও প্রতিষ্ঠানটির নীরবতা এবং তদন্তে সহযোগিতার অভাব নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। আমাদের অনুসন্ধান বলছে, ভল্টে অস্ত্রের পাশাপাশি স্বর্ণসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদও রাখা হতো। অভিযোগ রয়েছে—চুরির ঠিক আগে ভল্টের পাশের নিরাপত্তাকর্মীদের রহস্যজনকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

কার্গো টার্মিনালের স্ট্রং রুম বা ভল্টে সাধারণত বহনযোগ্য মূল্যবান আমদানিকৃত পণ্য সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু ২৮ অক্টোবর দুর্ধর্ষ চুরিতে অস্ত্র ছাড়া প্রায় সব মালামাল উধাও হয়ে যায়।

আগুনের ঘটনার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিবকে দেওয়া বিমান বাংলাদেশের এক চিঠিতে বলা হয়েছিল—টার্মিনালের অন্যান্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভল্ট ও এর ভেতরের মালামাল অক্ষত ছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভল্টের মালামাল কাস্টমস হেফাজতে নেওয়ার তাগিদও দেওয়া হয়। তবে প্রশ্ন উঠেছে—তখনই কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, প্রথম চিঠিটি তাদের কাছে সরাসরি আসেনি। কাস্টমসের কাজ মূলত রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, পণ্যের নিলামসংক্রান্ত ধাপেও তারা ভূমিকা রাখে বলে জানান তিনি।

চুরির দীর্ঘ সময় পরও এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। বিমানবন্দর থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতেও চুরি হওয়া সম্পদের তালিকা দেয়নি বিমান বাংলাদেশ। পুলিশ বলছে, দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ডাকা হলেও তারা থানায় হাজির হননি।

বিমান ভবনে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। চুরির আগে ভল্ট এলাকার নিরাপত্তাকর্মীদের সরানোর অভিযোগ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা দিয়েছে—আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছাদ ধসে পড়ার ঝুঁকি থেকেই তাদের অন্যত্র নেওয়া হয়েছিল।

চুরির পর ভল্টে কিছু অস্ত্র উদ্ধার হলেও মানিক-স্বর্ণ বা অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ ছিল কিনা সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করেনি বিমান বাংলাদেশ। আমাদের হাতে থাকা নথিতে দেখা যায়—সেখানে অস্ত্রের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান সম্পদও সংরক্ষণ করা হতো।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

শাহজালাল ভল্ট কাণ্ড: সম্পদ চুরির ঘটনায় বিমানের গড়িমসি ও গোপনীয়তার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:৪১:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভল্ট থেকে চুরি হওয়া সম্পদের তালিকা এখনও প্রকাশ করেনি বিমান বাংলাদেশ। ঘটনার ৩২ দিন পেরোলেও প্রতিষ্ঠানটির নীরবতা এবং তদন্তে সহযোগিতার অভাব নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। আমাদের অনুসন্ধান বলছে, ভল্টে অস্ত্রের পাশাপাশি স্বর্ণসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদও রাখা হতো। অভিযোগ রয়েছে—চুরির ঠিক আগে ভল্টের পাশের নিরাপত্তাকর্মীদের রহস্যজনকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

কার্গো টার্মিনালের স্ট্রং রুম বা ভল্টে সাধারণত বহনযোগ্য মূল্যবান আমদানিকৃত পণ্য সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু ২৮ অক্টোবর দুর্ধর্ষ চুরিতে অস্ত্র ছাড়া প্রায় সব মালামাল উধাও হয়ে যায়।

আগুনের ঘটনার পর বেসামরিক বিমান পরিবহন সচিবকে দেওয়া বিমান বাংলাদেশের এক চিঠিতে বলা হয়েছিল—টার্মিনালের অন্যান্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভল্ট ও এর ভেতরের মালামাল অক্ষত ছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভল্টের মালামাল কাস্টমস হেফাজতে নেওয়ার তাগিদও দেওয়া হয়। তবে প্রশ্ন উঠেছে—তখনই কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, প্রথম চিঠিটি তাদের কাছে সরাসরি আসেনি। কাস্টমসের কাজ মূলত রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, পণ্যের নিলামসংক্রান্ত ধাপেও তারা ভূমিকা রাখে বলে জানান তিনি।

চুরির দীর্ঘ সময় পরও এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। বিমানবন্দর থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতেও চুরি হওয়া সম্পদের তালিকা দেয়নি বিমান বাংলাদেশ। পুলিশ বলছে, দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের ডাকা হলেও তারা থানায় হাজির হননি।

বিমান ভবনে গিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। চুরির আগে ভল্ট এলাকার নিরাপত্তাকর্মীদের সরানোর অভিযোগ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ ব্যাখ্যা দিয়েছে—আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছাদ ধসে পড়ার ঝুঁকি থেকেই তাদের অন্যত্র নেওয়া হয়েছিল।

চুরির পর ভল্টে কিছু অস্ত্র উদ্ধার হলেও মানিক-স্বর্ণ বা অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ ছিল কিনা সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত করেনি বিমান বাংলাদেশ। আমাদের হাতে থাকা নথিতে দেখা যায়—সেখানে অস্ত্রের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান সম্পদও সংরক্ষণ করা হতো।