ঢাকা ১০:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিদেশে নেওয়ার উপযোগী কি না—তা পর্যবেক্ষণের পরই তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন—এমনটি জানিয়েছেন তিনি।


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৮:০৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২০৮৬ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর যুক্তরাজ্যপ্রবাসী তাঁর বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মির্জা ফখরুলকে উদ্ধৃত করে এমন তথ্য জানানো হয়। এর আগে বিকেলে নয়াপল্টনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি একই বক্তব্য দেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া। রোববার রাতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট বাড়লে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা পরবর্তীতে আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এদিকে আজ যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিশেষজ্ঞ দল অবস্থার মূল্যায়ন করে প্রয়োজন মনে করলে তাঁকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। প্রায় চার মাস চিকিৎসা শেষে তিনি গত ৬ মে দেশে ফেরেন।

২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তির পর তারেক রহমান সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান এবং সেই থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন। গত বছর জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার সাজা বাতিল হওয়ায় দেশে ফেরার বিষয়ে আলোচনা জোরদার হয়। তবে এখনো তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি।

গত শুক্রবার খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফিরছেন—এমন আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শনিবার লন্ডন থেকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, মায়ের পাশে থাকার ইচ্ছা থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ তাঁর একক নিয়ন্ত্রণে নেই। রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুকূলে এলেই দেশে ফিরতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারি মহল বারবার বলছে, তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, চাইলে এক দিনের মধ্যেই তাঁকে ‘ট্রাভেল পাস’ দেওয়া হবে। আজ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও জানান, দেশে কারও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা নেই এবং সরকার সবার নিরাপত্তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিদেশে নেওয়ার উপযোগী কি না—তা পর্যবেক্ষণের পরই তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন—এমনটি জানিয়েছেন তিনি।

আপডেট সময় : ০৮:০৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর ২০২৫

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর যুক্তরাজ্যপ্রবাসী তাঁর বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শিগগিরই দেশে ফিরবেন তারেক রহমান।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মির্জা ফখরুলকে উদ্ধৃত করে এমন তথ্য জানানো হয়। এর আগে বিকেলে নয়াপল্টনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি একই বক্তব্য দেন।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ১০ দিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রায় ৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া। রোববার রাতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ নানা রোগে ভুগছেন। গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট বাড়লে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর হৃদ্‌যন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা পরবর্তীতে আরও জটিল হয়ে ওঠে।

এদিকে আজ যুক্তরাজ্য থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপি নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, বিশেষজ্ঞ দল অবস্থার মূল্যায়ন করে প্রয়োজন মনে করলে তাঁকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। প্রায় চার মাস চিকিৎসা শেষে তিনি গত ৬ মে দেশে ফেরেন।

২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তির পর তারেক রহমান সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান এবং সেই থেকে সেখানেই অবস্থান করছেন। গত বছর জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলার সাজা বাতিল হওয়ায় দেশে ফেরার বিষয়ে আলোচনা জোরদার হয়। তবে এখনো তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি।

গত শুক্রবার খালেদা জিয়ার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফিরছেন—এমন আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শনিবার লন্ডন থেকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, মায়ের পাশে থাকার ইচ্ছা থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণ তাঁর একক নিয়ন্ত্রণে নেই। রাজনৈতিক বাস্তবতা অনুকূলে এলেই দেশে ফিরতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারি মহল বারবার বলছে, তারেক রহমানের দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, চাইলে এক দিনের মধ্যেই তাঁকে ‘ট্রাভেল পাস’ দেওয়া হবে। আজ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও জানান, দেশে কারও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা নেই এবং সরকার সবার নিরাপত্তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।