ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

শাপলা চত্বরের ঘটনায় ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরলেন প্রেস সচিব


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২০৯৯ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, আক্রমণ এবং হত্যার কৌশল আওয়ামী লীগ সরকার বারবার প্রয়োগ করেছে। অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পুরো জাতির প্রতিরোধের মুখে এই কৌশল ধ্বসে পড়ে।

শফিকুল আলম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ‘শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড’ বলতে সাধারণত মতিঝিলের শাপলা স্কয়ার এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকেই বোঝানো হয়। ৫ মে রাত থেকেই পল্টন, বিজয়নগর, নাইটিঙ্গেল মোড় ও মতিঝিলের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রথম দফায় শাপলা চত্বরে এক-দুই লাশ আনা হলেও হত্যার বিস্তারিত জানা যায়নি।

রাত আটটার দিকে শাহিদবাগ–মালিবাগের বারাকা জেনারেল হাসপাতালে ছয়টি লাশ নিয়ে আসা হয়, প্রতিটির মাথায় গুলি করা হয়েছিল। সহকর্মী কামরুল তথ্য যাচাই করতে হাসপাতালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন এবং মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন। পরদিন কাকরাইলের ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে আরও লাশের তথ্য নিশ্চিত হয়। এরপর নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর–সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বড় হত্যাকাণ্ডের খবর আসে। বিজিবি সদস্যরা হেঁটে বাড়ি ফেরত হেফাজত সমর্থকদের ওপর গুলি চালিয়ে প্রায় ২০ জনকে হত্যা করে।

ঢাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ পুলিশ কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটায়নি বলে দাবি করেন। তবে AFP-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। পরে অধিকার সংস্থা ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তদন্তে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০ হিসেবে নিশ্চিত হয়।

শফিকুল আলম জানান, ঢাকার কেন্দ্রীয় এলাকায় অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে অস্ত্রধারী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। তিনি দুজনকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন—জাহিদ সিদ্দিকী তারেক ও রিয়াজ মিল্কি। পরবর্তীতে তারেক মিল্কিকে এক মার্কেটের সামনে গুলি করে হত্যা করে, যা সিসিটিভিতে ধরা পড়ে। পরে র‍্যাব তাকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী এগারো বছর ধরে আওয়ামী লীগ একই কৌশল প্রয়োগ করেছে—যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, আক্রমণ ও হত্যা। অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পুরো জাতির প্রতিরোধের মুখে এটি ব্যর্থ হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

শাপলা চত্বরের ঘটনায় ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরলেন প্রেস সচিব

আপডেট সময় : ০১:০৫:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫

২০১৩ সালের ৫ মে রাতে শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খুলেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি জানান, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, আক্রমণ এবং হত্যার কৌশল আওয়ামী লীগ সরকার বারবার প্রয়োগ করেছে। অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পুরো জাতির প্রতিরোধের মুখে এই কৌশল ধ্বসে পড়ে।

শফিকুল আলম নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ‘শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড’ বলতে সাধারণত মতিঝিলের শাপলা স্কয়ার এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকেই বোঝানো হয়। ৫ মে রাত থেকেই পল্টন, বিজয়নগর, নাইটিঙ্গেল মোড় ও মতিঝিলের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রথম দফায় শাপলা চত্বরে এক-দুই লাশ আনা হলেও হত্যার বিস্তারিত জানা যায়নি।

রাত আটটার দিকে শাহিদবাগ–মালিবাগের বারাকা জেনারেল হাসপাতালে ছয়টি লাশ নিয়ে আসা হয়, প্রতিটির মাথায় গুলি করা হয়েছিল। সহকর্মী কামরুল তথ্য যাচাই করতে হাসপাতালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন এবং মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন। পরদিন কাকরাইলের ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে আরও লাশের তথ্য নিশ্চিত হয়। এরপর নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর–সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বড় হত্যাকাণ্ডের খবর আসে। বিজিবি সদস্যরা হেঁটে বাড়ি ফেরত হেফাজত সমর্থকদের ওপর গুলি চালিয়ে প্রায় ২০ জনকে হত্যা করে।

ঢাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ পুলিশ কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটায়নি বলে দাবি করেন। তবে AFP-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। পরে অধিকার সংস্থা ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তদন্তে মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬০ হিসেবে নিশ্চিত হয়।

শফিকুল আলম জানান, ঢাকার কেন্দ্রীয় এলাকায় অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে অস্ত্রধারী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা। তিনি দুজনকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন—জাহিদ সিদ্দিকী তারেক ও রিয়াজ মিল্কি। পরবর্তীতে তারেক মিল্কিকে এক মার্কেটের সামনে গুলি করে হত্যা করে, যা সিসিটিভিতে ধরা পড়ে। পরে র‍্যাব তাকে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তী এগারো বছর ধরে আওয়ামী লীগ একই কৌশল প্রয়োগ করেছে—যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, আক্রমণ ও হত্যা। অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পুরো জাতির প্রতিরোধের মুখে এটি ব্যর্থ হয়।