জলবায়ু অর্থায়ন অবশ্যই ন্যায্য, জনগণকেন্দ্রিক এবং সক্ষমতা-ভিত্তিক হতে হবে: সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
- আপডেট সময় : ০১:১৮:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২১২৯ বার পড়া হয়েছে
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, জলবায়ু অর্থায়নের সংস্কারে স্থানীয় জনগণের চাহিদা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং স্বচ্ছতাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। তিনি বলেন, “দ্রুত তহবিল বিতরণ, সঠিক পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম কাঠামো এখন জরুরি।”
আজ রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত “বাংলাদেশের জাতীয় জলবায়ু অর্থায়ন কৌশল প্রণয়ন” শীর্ষক পরামর্শ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সরকারি উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী ও জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি মূলত “নতুন ও অতিরিক্ত” সহায়তার নীতির ওপর ভিত্তি করেই গঠিত হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তা শিথিল হয়েছে এবং কিছু উন্নত দেশ এখনও বৈজ্ঞানিক সত্য অস্বীকার করছে। তিনি বলেন, “অনেক দেশ প্রতিশ্রুতি পালন করলেও অনেকে কৌশলগতভাবে জলবায়ু আলোচনাকে ব্যবহার করছে।”
তিনি বাংলাদেশের বাজেট বরাদ্দের অমাপ্য সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “প্রতিবছর পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সর্বনিম্ন বাজেট পায়, অথচ বড় অবকাঠামো প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অভিযোজন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় পর্যায়ের স্থিতিস্থাপকতা পর্যাপ্ত অর্থায়ন পায় না।”
সংস্থাগুলোর পরিকল্পনাগত দক্ষতা, কর্মী সক্ষমতা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের গুরুত্বও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “প্রক্রিয়াকেই যদি লক্ষ্য বানানো হয়, তবে ফলাফল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রসঙ্গে তিনি Bangladesh Climate Development Partnership (BCDP)–এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “BCDP-কে কেন্দ্রীয় সমন্বয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, প্রকল্প উন্নয়ন এবং তদারকির মাধ্যমে কৌশলগত দিকনির্দেশনা তৈরি করা হবে।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে প্রবেশাধিকার প্রক্রিয়া পুনর্গঠিত হয়েছে। এতে বেসরকারি সংস্থা সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে আবেদন করতে পারবে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার যথাযথ অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “নদীভাঙন এলাকা, লবণাক্ততা ও খরাপ্রবণ অঞ্চলে শত শত আবেদন আসে, কিন্তু সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প কিছুই সমর্থন করা সম্ভব। এমন বিনিয়োগ অর্থনৈতিকভাবে নতুন সড়ক নির্মাণের চেয়ে বেশি ফলপ্রসূ।”
পরে মানবাধিকার দিবস ২০২৫ উপলক্ষে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত “সবার জন্য ন্যায়বিচার ও অধিকার নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশের অঙ্গীকার” শীর্ষক অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, সরকার ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন পুলিশ কমিশন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, “আইনি কাঠামো তৈরি হচ্ছে এবং সরকারের লক্ষ্য হলো সবার সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।”
অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


























