মালয়েশিয়ায় জাল পাসপোর্ট সিন্ডিকেটের প্রধান হোতা সহ ৫ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে।
- আপডেট সময় : ০৭:০৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২০৯০ বার পড়া হয়েছে
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে জাল পাসপোর্ট তৈরি এবং অবৈধ স্বাস্থ্য পরীক্ষা (ফোমেমা) করানোর একটি আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের ‘মূল হোতা’সহ পাঁচজন বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। দুই সপ্তাহ ধরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম ফাঁস হয়।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, মঙ্গলবার কুয়ালালামপুরের জালান চেমুর ও জালান ইপোহর এলাকায় দুটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে রায়হান নামে সিন্ডিকেটের ‘মূল হোতা’সহ চারজন বাংলাদেশি আটক হয়। আটকদের বয়স ২৩ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, মূল হোতা এবং চারজন বাংলাদেশি দীর্ঘ সময় ভিসা মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। বাকি দু’জনের বৈধ পাসপোর্ট বা ভ্রমণ নথি ছিল না।
অপারেশন টিম সিন্ডিকেটের আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ জাল সামগ্রী জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশের জাল পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফর্ম, পাসপোর্টের রঙিন প্রিন্ট কপি, কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম।
সূত্র জানিয়েছে, সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিলাসবহুল আবাসস্থলের আড়ালে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করত। তারা মূলত ক্লাং ভ্যালি এলাকার অসুস্থ বা ফোমেমায় ‘আনফিট’ ঘোষিত বিদেশি নাগরিকদের টার্গেট করত। গ্রাহকের তথ্য ও আসল পাসপোর্ট নম্বর ব্যবহার করে জাল পাসপোর্ট তৈরি করা হতো, কিন্তু ছবির জায়গায় সিন্ডিকেট সদস্যদের ছবি প্রতিস্থাপন করা হতো। এরপর সেই জাল পাসপোর্ট নিয়ে ক্লিনিকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হতো।
প্রতিটি জাল পাসপোর্ট এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিন্ডিকেটটি গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ২৫০ রিঙ্গিত পর্যন্ত অর্থ গ্রহণ করত। গত ছয় মাস ধরে তারা সক্রিয় ছিল।
মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দেশের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে তারা আইন লঙ্ঘনকারী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।



























