একটি মোবাইল নম্বর থেকেই উন্মোচিত মা–মেয়ে হত্যার রহস্য!
- আপডেট সময় : ০৫:২০:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২০৯৭ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা লায়লা আফরোজ (৪৮) ও মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে (১৫) ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনার তিন দিনের মাথায় রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত গৃহকর্মী আয়েশা ও তার স্বামী রাব্বিকে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ভোরে ঝালকাঠির নলছিটির চরকায়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত কমিশনার এন এস নজরুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ৮ ডিসেম্বর সকালে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। নিহত লায়লা আফরোজের স্বামীর করা মামলায় নতুন গৃহকর্মী আয়েশাকে সন্দেহ করা হলেও তার কোনো ছবি, এনআইডি বা মোবাইল নম্বর না থাকায় তাকে শনাক্ত করা পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সিসিটিভি ফুটেজেও বোরকা পরা অবস্থায় তাকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
কোনো ডিজিটাল ক্লু না পাওয়ায় তদন্ত দল গত এক বছরে গৃহকর্মীদের মাধ্যমে সংঘটিত চুরির ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করতে থাকে। এ সময় গলায় পোড়া দাগযুক্ত এবং জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় বসবাসকারী গৃহকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তদন্তে হুমায়ুন রোডে পুরোনো একটি চুরির ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া একটি মোবাইল নম্বরই উন্মোচনে মূল সূত্র হিসেবে কাজ করে।
কল ডেটা বিশ্লেষণে জানা যায়, নম্বরটি ব্যবহার করত রাব্বি নামের এক ব্যক্তি। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, রাব্বির স্ত্রীই পলাতক গৃহকর্মী আয়েশা। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অবশেষে আয়েশা ও রাব্বিকে গ্রেফতার করা হয়। আয়েশার কাছ থেকে চুরি করা একটি ল্যাপটপও উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। সে জানায়, কাজে যোগদানের দ্বিতীয় দিনই সে দুই হাজার টাকা চুরি করে। চতুর্থ দিনের সকালে বিষয়টি নিয়ে গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজের সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে লুকিয়ে রাখা সুইচগিয়ার চাকু দিয়ে পেছন থেকে আঘাত করে তাকে হত্যা করে। মায়ের চিৎকার শুনে ছুটে আসা নাফিসাকেও এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে সে। নাফিসা গার্ডকে ফোন দিতে চাইলে আয়েশা ইন্টারকমের তার ছিঁড়ে ফেলে।
ঘটনার পর আয়েশা রক্তমাখা কাপড় বদলে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। পরে সিংগাইর ব্রিজ থেকে নিজের মোবাইল ও কাপড়সহ ব্যাগ নদীতে ফেলে দেয়।
অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, এর আগেও আয়েশার চুরির অভ্যাস ছিল এবং সে নিজের বোনের বাড়ি থেকেও অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি করেছিল।
তিনি ঢাকাবাসীর প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, “গৃহকর্মী নিয়োগের আগে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করুন। পরিচয়পত্র ও ভেরিফায়ারের তথ্য সংরক্ষণ করে রাখুন। এতে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।”






















