ওসমান হাদির অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক, ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে ইনকিলাব মঞ্চ।
- আপডেট সময় : ১২:২০:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২১১৭ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রয়েছেন ঢাকা–৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি। শনিবার সকালে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। নির্ধারিত সময় পার না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন শুক্রবার দুপুরে গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের পর রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের জানান, ওসমান হাদির ‘ইন্টারনাল রেসপন্স’ রয়েছে, তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত নন। চিকিৎসকেরা তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে তাঁর সুস্থতার জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে ইনকিলাব মঞ্চ, মঞ্চ–২৪সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের নেতা–কর্মীদের ভিড় দেখা যায়। এ সময় মঞ্চ–২৪-এর আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী গণমাধ্যমে বলেন, হামলাটি পরিকল্পিত। তাঁর দাবি, হামলাকারীদের সঙ্গে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেন এবং নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুলিটি ওসমান হাদির ডান কানের পাশ দিয়ে মাথায় ঢুকে বাঁ পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নিউরোসার্জারি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাঁর প্রাথমিক অস্ত্রোপচার করেন এবং অবস্থার উন্নতির জন্য পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সম্ভাব্য প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নিন্দা জানিয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে।
শরিফ ওসমান হাদির বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। বিভিন্ন আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে পরিচিতি পান তিনি। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে আলোচনায় আসেন হাদি।

























