চট্টগ্রামের ঘটনার পর সরকার কেন সতর্ক হলো না—হাদি ইস্যুতে রিজভীর ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ১২:৩২:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২০৮৬ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম–৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর জনসংযোগে গুলির ঘটনার এক মাস পর রাজধানীতে আবারও গুলির ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা–৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, কেউ কি আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে না তো?
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘বিএনপির দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক সভায় এসব কথা বলেন রিজভী।
রিজভী বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার একটি মর্মান্তিক ও মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটেছে। ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তো নিরপেক্ষ। তাদের সময়ে এত সন্ত্রাসী কার্যক্রম কীভাবে বাড়ছে? এখন তো সবার শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার কথা।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভয়াবহ বিভীষিকা পেরিয়ে জনগণ যে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন দিয়েছিল, তারা কেন ব্যর্থ হলো—এই প্রশ্ন উঠছে। চট্টগ্রামের ঘটনার পরও সরকার কেন সতর্ক হলো না। কেউ কি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে, সেই প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।’
ওসমান হাদির ওপর হামলার পর একটি রাজনৈতিক দল বিএনপির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘একটির পর একটি ঘটনায় সন্দেহ জাগছে—সবকিছু কি কোনো মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ঘটছে না তো? বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে।’
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘৫ আগস্টের পর দেশের মানুষের মনে যে পরিবর্তন এসেছে, সেটিকে বিবেচনায় রেখেই আমরা সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার রাজনীতি করতে চাই। কিন্তু তার বিপরীতে আমরা মবোক্রেসি, অন্যকে হেয় করা এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার রাজনীতি দেখতে পাচ্ছি। দেশের মানুষ এ ধরনের রাজনীতি চায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্র তখনই কার্যকর হয়, যখন এর সুফল অর্থনীতির মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছায়। অন্যথায় গণতন্ত্র শুধু ভাষণ ও নির্বাচনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদির ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।




























