মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে ১২৩ জন বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে বেলারুশ।
- আপডেট সময় : ১২:৪৩:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২০৯২ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে বিরোধীদলীয় নেতা মারিয়া কোলেসনিকোভা ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মানবাধিকারকর্মী আলেস বিয়ালিয়াতস্কিসহ মোট ১২৩ রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে বেলারুশ।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বেলারুশের বিরোধীদলীয় নেতা সভিয়াতলানা সিখানৌস্কায়া মুক্তিপ্রাপ্ত বন্দি আলেস বিয়ালিয়াতস্কিকে স্বাগত জানান। এদিনই বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জন কোয়েলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বৈঠকের পরপরই কারাবন্দিদের মুক্তির সিদ্ধান্ত নেয় মিনস্ক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে জন কোয়েলকে বেলারুশবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। তার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে দেশটিতে আটক থাকা এক হাজারের বেশি রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া।
রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশ বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে রয়েছে। একই সঙ্গে দেশটি বিশ্বে সার উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পটাশের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদক। বেলারুশের পটাশ রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়েই বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
জন কোয়েল জানান, দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলে আরও কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হতে পারে। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এখনো আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোকে বেলারুশের বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না।
উল্লেখ্য, মারিয়া কোলেসনিকোভা ২০২০ সাল থেকে কারাবন্দি ছিলেন। দীর্ঘ এই সময়ের বড় অংশ তাকে একাকী নির্জন কক্ষে রাখা হয়। তার মুক্তির দাবিতে শুরু থেকেই আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন তার বোন তাতিয়ানা খোমিচ। মুক্তির পরপরই ভিডিও কলে কোলেসনিকোভার সঙ্গে কথা বলতে পেরেছেন বলে তাতিয়ানা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা লুকাশেঙ্কোর জন্য বড় রাজনৈতিক সাফল্য। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে অবস্থা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।



























