ঢাকা ০৩:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বক্তব্য নাকচ করে ভারতের প্রতিক্রিয়া


নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২০৮৯ বার পড়া হয়েছে

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলবের পর বাংলাদেশের বক্তব্য ও অভিযোগ নাকচ করে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতীয় হাই কমিশনারকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। এ সময় শরিফ ওসমান হাদির ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের যেন ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা কামনা করা হয়। পাশাপাশি, কেউ ইতোমধ্যে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে থাকলে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের ব্যবস্থার অনুরোধ জানানো হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আসন্ন সংসদ নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে পলাতক শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে তার অনুসারীদের উসকানিমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াতে আহ্বান জানাচ্ছেন। এ ধরনের বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের প্রতি বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগের কথাও হাই কমিশনারকে অবহিত করা হয়।

এর পরপরই এক প্রেসনোটে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এসব বক্তব্য স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে ভারত সরকার। এতে বলা হয়, ভারত বরাবরই বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ভারত কখনোই তার ভূখণ্ডকে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যকলাপে ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রেসনোটে আরও বলা হয়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা করে ভারত।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ সরকার ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দ্রুত প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যাতে তারা বাংলাদেশের আদালতের দেওয়া রায় ও সাজা কার্যকরের মুখোমুখি হতে পারেন। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতার বিষয়টিও ভারতীয় হাই কমিশনারের নজরে আনা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এসব পলাতক ব্যক্তি আসন্ন নির্বাচন ব্যাহত করতে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা, সংগঠিত ও বাস্তবায়নে সহায়তা করছেন। এ ধরনের ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাদের বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারত সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের বক্তব্য নাকচ করে ভারতের প্রতিক্রিয়া

আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলবের পর বাংলাদেশের বক্তব্য ও অভিযোগ নাকচ করে একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভারতীয় হাই কমিশনারকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। এ সময় শরিফ ওসমান হাদির ওপর হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের যেন ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা কামনা করা হয়। পাশাপাশি, কেউ ইতোমধ্যে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে থাকলে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের ব্যবস্থার অনুরোধ জানানো হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, আসন্ন সংসদ নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে পলাতক শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে তার অনুসারীদের উসকানিমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়াতে আহ্বান জানাচ্ছেন। এ ধরনের বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের প্রতি বাংলাদেশের গভীর উদ্বেগের কথাও হাই কমিশনারকে অবহিত করা হয়।

এর পরপরই এক প্রেসনোটে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের এসব বক্তব্য স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে ভারত সরকার। এতে বলা হয়, ভারত বরাবরই বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ভারত কখনোই তার ভূখণ্ডকে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যকলাপে ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।

প্রেসনোটে আরও বলা হয়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবে—এমন প্রত্যাশা করে ভারত।

এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ সরকার ভারতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দ্রুত প্রত্যর্পণের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে, যাতে তারা বাংলাদেশের আদালতের দেওয়া রায় ও সাজা কার্যকরের মুখোমুখি হতে পারেন। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বাংলাদেশবিরোধী তৎপরতার বিষয়টিও ভারতীয় হাই কমিশনারের নজরে আনা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এসব পলাতক ব্যক্তি আসন্ন নির্বাচন ব্যাহত করতে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা, সংগঠিত ও বাস্তবায়নে সহায়তা করছেন। এ ধরনের ফ্যাসিবাদী সন্ত্রাসীদের অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং তাদের বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের জন্য ভারত সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়।