ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

চীনের ট্রেন মাত্র দুই সেকেন্ডে ৭০০ কিলোমিটারের গতি অর্জন করে বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করলো


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৫:২১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২১৩৪ বার পড়া হয়েছে

সিসিটিভিতে সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যাচ্ছে গাড়িটি দ্রুতগতিতে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক রেলের উপর দিয়ে যাচ্ছে, কেবল কুয়াশার আভাস রেখে যাচ্ছে - ছবি: সিসিটিভি

সবচেয়ে দ্রুতগতির ম্যাগলেভ ট্রেন পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন এক বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে চীন। মাত্র দুই সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৭০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে বিস্ময়কর এই সাফল্য অর্জন করেছে ট্রেনটি। এত দ্রুতগতির কারণে খালি চোখে একে অনুসরণ করা প্রায় অসম্ভব—মুহূর্তেই যেন দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।

চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজির (এনইউডিটি) গবেষকেরা ম্যাগনেটিক লেভিটেশন বা ম্যাগলেভ প্রযুক্তির এই পরীক্ষা চালান। প্রায় এক টন ওজনের সুপারকন্ডাক্টিং বৈদ্যুতিক ম্যাগলেভ ট্রেনটিকে ৪০০ মিটার দীর্ঘ পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে এই সর্বোচ্চ গতিতে তোলা হয়। গতি অর্জনের পর ট্রেনটিকে নিরাপদে থামানো হয়।

এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ট্রেনটি বিশ্বের দ্রুততম সুপারকন্ডাক্টিং ইলেকট্রিক ম্যাগলেভ ট্রেন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পরীক্ষার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দেখা যায় বিদ্যুতের ঝলকের মতো ট্রেনটি ছুটে যাচ্ছে এবং পেছনে হালকা কুয়াশার রেখা তৈরি করছে। পুরো দৃশ্যটি অনেকটা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির চলচ্চিত্রের মতো বলে মন্তব্য করেছেন দর্শকরা।

ম্যাগলেভ ট্রেনটি শক্তিশালী সুপারকন্ডাক্টিং চৌম্বক ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্র্যাকের ওপর ভেসে থাকে। কোনো শারীরিক স্পর্শ ছাড়াই চৌম্বক শক্তি ট্রেনটিকে ভাসিয়ে রাখে এবং সামনে এগিয়ে নেয়। এর ত্বরণ ক্ষমতা এতটাই শক্তিশালী যে তা রকেট উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিতেও ব্যবহারযোগ্য বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

এই গতিতে ম্যাগলেভ ট্রেন চালু হলে দূরবর্তী শহরগুলো মাত্র কয়েক মিনিটে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের হাইপারলুপ পরিবহন ব্যবস্থার পথও প্রশস্ত করছে, যেখানে ভ্যাকুয়াম টিউবের ভেতর দিয়ে ট্রেন অতি উচ্চগতিতে চলাচল করবে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সাফল্যের মাধ্যমে অতি উচ্চগতির ইলেকট্রোম্যাগনেটিক প্রপালশন, বৈদ্যুতিক সাসপেনশন গাইডেন্স এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেটের মতো জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু রেল পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; মহাকাশবিজ্ঞান ও বিমান চলাচলেও এর প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কম জ্বালানি ব্যয়ে রকেট ও বিমান আরও দ্রুত ও সহজে উড্ডয়ন করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনইউডিটির অধ্যাপক লি জি বলেন, অতি উচ্চগতির সুপারকন্ডাক্টিং ইলেকট্রিক ম্যাগলেভ সিস্টেমের এই সফল উদ্ভাবন চীনের পরিবহন প্রযুক্তি গবেষণাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

গবেষণা দলটি গত এক দশক ধরে এই প্রকল্পে কাজ করছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই ট্র্যাকে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেনটির গতি ঘণ্টায় ৬৪৮ কিলোমিটার পর্যন্ত তোলা হয়েছিল। উল্লেখ্য, প্রায় তিন দশক আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ই চীনের প্রথম যাত্রীবাহী ম্যাগলেভ ট্রেন তৈরি করে, যার মাধ্যমে চীন বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে এই প্রযুক্তিতে সক্ষমতা অর্জন করে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

চীনের ট্রেন মাত্র দুই সেকেন্ডে ৭০০ কিলোমিটারের গতি অর্জন করে বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করলো

আপডেট সময় : ০৫:২১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

সবচেয়ে দ্রুতগতির ম্যাগলেভ ট্রেন পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন এক বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে চীন। মাত্র দুই সেকেন্ডে ঘণ্টায় ৭০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছে বিস্ময়কর এই সাফল্য অর্জন করেছে ট্রেনটি। এত দ্রুতগতির কারণে খালি চোখে একে অনুসরণ করা প্রায় অসম্ভব—মুহূর্তেই যেন দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।

চীনের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজির (এনইউডিটি) গবেষকেরা ম্যাগনেটিক লেভিটেশন বা ম্যাগলেভ প্রযুক্তির এই পরীক্ষা চালান। প্রায় এক টন ওজনের সুপারকন্ডাক্টিং বৈদ্যুতিক ম্যাগলেভ ট্রেনটিকে ৪০০ মিটার দীর্ঘ পরীক্ষামূলক ট্র্যাকে এই সর্বোচ্চ গতিতে তোলা হয়। গতি অর্জনের পর ট্রেনটিকে নিরাপদে থামানো হয়।

এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ট্রেনটি বিশ্বের দ্রুততম সুপারকন্ডাক্টিং ইলেকট্রিক ম্যাগলেভ ট্রেন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। পরীক্ষার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে দেখা যায় বিদ্যুতের ঝলকের মতো ট্রেনটি ছুটে যাচ্ছে এবং পেছনে হালকা কুয়াশার রেখা তৈরি করছে। পুরো দৃশ্যটি অনেকটা বিজ্ঞান কল্পকাহিনির চলচ্চিত্রের মতো বলে মন্তব্য করেছেন দর্শকরা।

ম্যাগলেভ ট্রেনটি শক্তিশালী সুপারকন্ডাক্টিং চৌম্বক ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্র্যাকের ওপর ভেসে থাকে। কোনো শারীরিক স্পর্শ ছাড়াই চৌম্বক শক্তি ট্রেনটিকে ভাসিয়ে রাখে এবং সামনে এগিয়ে নেয়। এর ত্বরণ ক্ষমতা এতটাই শক্তিশালী যে তা রকেট উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিতেও ব্যবহারযোগ্য বলে মনে করছেন গবেষকেরা।

এই গতিতে ম্যাগলেভ ট্রেন চালু হলে দূরবর্তী শহরগুলো মাত্র কয়েক মিনিটে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের হাইপারলুপ পরিবহন ব্যবস্থার পথও প্রশস্ত করছে, যেখানে ভ্যাকুয়াম টিউবের ভেতর দিয়ে ট্রেন অতি উচ্চগতিতে চলাচল করবে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সাফল্যের মাধ্যমে অতি উচ্চগতির ইলেকট্রোম্যাগনেটিক প্রপালশন, বৈদ্যুতিক সাসপেনশন গাইডেন্স এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেটের মতো জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু রেল পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; মহাকাশবিজ্ঞান ও বিমান চলাচলেও এর প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কম জ্বালানি ব্যয়ে রকেট ও বিমান আরও দ্রুত ও সহজে উড্ডয়ন করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এনইউডিটির অধ্যাপক লি জি বলেন, অতি উচ্চগতির সুপারকন্ডাক্টিং ইলেকট্রিক ম্যাগলেভ সিস্টেমের এই সফল উদ্ভাবন চীনের পরিবহন প্রযুক্তি গবেষণাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

গবেষণা দলটি গত এক দশক ধরে এই প্রকল্পে কাজ করছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একই ট্র্যাকে পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেনটির গতি ঘণ্টায় ৬৪৮ কিলোমিটার পর্যন্ত তোলা হয়েছিল। উল্লেখ্য, প্রায় তিন দশক আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ই চীনের প্রথম যাত্রীবাহী ম্যাগলেভ ট্রেন তৈরি করে, যার মাধ্যমে চীন বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে এই প্রযুক্তিতে সক্ষমতা অর্জন করে।