ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

বাংলাদেশকে ‘সবক শেখা’তে উদাহরণ হিসেবে গাজায় ইসরাইলি হামলার উল্লেখ, বিজেপি নেতার মন্তব্যে বিতর্ক


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২১১৪ বার পড়া হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তার এই বক্তব্য ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ইস্যুতে বিজেপির একাধিক নেতা উসকানিমূলক ও আগ্রাসী মন্তব্য করে আসছেন। এর আগে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রতিবেশী দেশের সংকটের স্থায়ী সমাধান ‘অস্ত্রোপচারমূলক’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভব বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিসকে দেওয়া এক বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী গাজায় ইসরাইলের অভিযানের উদাহরণ টেনে বলেন, বাংলাদেশকেও একইভাবে ‘শিক্ষা দেওয়া উচিত’। তিনি দাবি করেন, ভারত হিন্দুদের স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশকেও ‘শিক্ষা’ দিতে হবে।

শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো একে উসকানিমূলক ও ঘৃণামূলক বক্তব্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলেছে, বিজেপি ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি করছে। দলটি শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে ‘নগ্ন ঘৃণামূলক ভাষণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছে, এমন মন্তব্যের পরও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বলও একই সুরে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এই বক্তব্যের পরও কোনো এফআইআর, গ্রেপ্তার বা ইউএপিএর মতো আইনি পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার উপনেতা সাগরিকা ঘোষ বলেন, বিজেপির বাংলার নেতৃত্ব বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গাজার মতো অভিযানের কথা বলছে এবং দাবি করছে, নরেন্দ্র মোদী সরকার কেবল হিন্দুদের সরকার। তবে বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বাংলাদেশে এক হিন্দু যুবকের হত্যার প্রতিবাদে কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সামনে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেও তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বলেন, ভারতের কোটি কোটি হিন্দু বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের জন্য লড়াই করবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

বাংলাদেশকে ‘সবক শেখা’তে উদাহরণ হিসেবে গাজায় ইসরাইলি হামলার উল্লেখ, বিজেপি নেতার মন্তব্যে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৩:৪৩:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার মন্তব্য করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। তার এই বক্তব্য ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক ও নিন্দার জন্ম দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ইস্যুতে বিজেপির একাধিক নেতা উসকানিমূলক ও আগ্রাসী মন্তব্য করে আসছেন। এর আগে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রতিবেশী দেশের সংকটের স্থায়ী সমাধান ‘অস্ত্রোপচারমূলক’ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভব বলে মন্তব্য করেছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিসকে দেওয়া এক বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী গাজায় ইসরাইলের অভিযানের উদাহরণ টেনে বলেন, বাংলাদেশকেও একইভাবে ‘শিক্ষা দেওয়া উচিত’। তিনি দাবি করেন, ভারত হিন্দুদের স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশকেও ‘শিক্ষা’ দিতে হবে।

শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধী দলগুলো একে উসকানিমূলক ও ঘৃণামূলক বক্তব্য হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে বলেছে, বিজেপি ঘৃণা ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি করছে। দলটি শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যকে ‘নগ্ন ঘৃণামূলক ভাষণ’ হিসেবে উল্লেখ করে দাবি করেছে, এমন মন্তব্যের পরও তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বলও একই সুরে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এই বক্তব্যের পরও কোনো এফআইআর, গ্রেপ্তার বা ইউএপিএর মতো আইনি পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার উপনেতা সাগরিকা ঘোষ বলেন, বিজেপির বাংলার নেতৃত্ব বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গাজার মতো অভিযানের কথা বলছে এবং দাবি করছে, নরেন্দ্র মোদী সরকার কেবল হিন্দুদের সরকার। তবে বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি সফল হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বাংলাদেশে এক হিন্দু যুবকের হত্যার প্রতিবাদে কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসের সামনে বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেও তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বলেন, ভারতের কোটি কোটি হিন্দু বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের জন্য লড়াই করবে।