ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

গাজা চুক্তির ‘দ্বিতীয় ধাপ’ দ্রুত কার্যকর করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / ২০৮৩ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা শান্তি পরিকল্পনার ‘দ্বিতীয় ধাপ’ দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস দ্রুত অস্ত্র সমর্পণ না করলে তাদের ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে।

সোমবার ফ্লোরিডায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। ২০ দফার গাজা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন করতে চাই। কিন্তু এর জন্য হামাসকে অবশ্যই নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। তারা এ বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এখন যদি তা বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়বে। খুব শিগগিরই তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে।’

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলেও ট্রাম্প দাবি করেন, শান্তি পরিকল্পনার শর্তগুলো ইসরায়েল ‘শতভাগ মেনে চলছে’।

গাজা প্রসঙ্গের পাশাপাশি ইরান নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরান যদি আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে পুনরায় বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে।

ট্রাম্পের দাবি, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘বিধ্বস্ত’ হয়েছে। ইরান নতুন কোনো স্থানে কার্যক্রম শুরু করেছে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজায় একটি কারিগরি (টেকনোক্র্যাট) সরকার গঠন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এ ধাপ শেষে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।

তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে এবং এ সময় তাদের তিনজন সেনা নিহত হয়েছেন।

বৈঠকে সিরিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় আসে। গত বছর বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট দেশটিকে এগিয়ে নিতে কঠোর পরিশ্রম করছেন।’

উল্লেখ্য, গত জুনে সিরিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

গাজা চুক্তির ‘দ্বিতীয় ধাপ’ দ্রুত কার্যকর করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০১:৪১:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা শান্তি পরিকল্পনার ‘দ্বিতীয় ধাপ’ দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস দ্রুত অস্ত্র সমর্পণ না করলে তাদের ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে।

সোমবার ফ্লোরিডায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। ২০ দফার গাজা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যত দ্রুত সম্ভব দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন করতে চাই। কিন্তু এর জন্য হামাসকে অবশ্যই নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে। তারা এ বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। এখন যদি তা বাস্তবায়ন না করে, তাহলে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়বে। খুব শিগগিরই তাদের অস্ত্র সমর্পণ করতে হবে।’

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলেও ট্রাম্প দাবি করেন, শান্তি পরিকল্পনার শর্তগুলো ইসরায়েল ‘শতভাগ মেনে চলছে’।

গাজা প্রসঙ্গের পাশাপাশি ইরান নিয়েও কড়া অবস্থানের কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরান যদি আবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে পুনরায় বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে।

ট্রাম্পের দাবি, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ‘বিধ্বস্ত’ হয়েছে। ইরান নতুন কোনো স্থানে কার্যক্রম শুরু করেছে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিবিড় নজরদারি চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজায় একটি কারিগরি (টেকনোক্র্যাট) সরকার গঠন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। এ ধাপ শেষে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।

তবে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। হামাস-নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে এবং এ সময় তাদের তিনজন সেনা নিহত হয়েছেন।

বৈঠকে সিরিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও আলোচনায় আসে। গত বছর বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট দেশটিকে এগিয়ে নিতে কঠোর পরিশ্রম করছেন।’

উল্লেখ্য, গত জুনে সিরিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।