নাইজেরিয়ায় সশস্ত্র হামলায় প্রাণ গেল ৩০ জনের
- আপডেট সময় : ০১:০৬:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০৮৯ বার পড়া হয়েছে
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার নাইজার প্রদেশে একটি গ্রামে সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। হামলার সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। এ ছাড়া কয়েকজন গ্রামবাসীকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা। ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ জানুয়ারি) নাইজার প্রদেশের কাসুওয়ান দাজি গ্রামের কাছে একটি জঙ্গল থেকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা বেরিয়ে এসে স্থানীয় বাজারে হামলা চালায়। তারা দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং মালামাল লুট করে নেয়।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, হামলার পর ঠিক কতজনকে অপহরণ করা হয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। বিবিসি হাউসা সার্ভিসকে এক স্থানীয় সাংবাদিক জানান, মোটরসাইকেলে এসে বন্দুকধারীরা গ্রামবাসীদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালায়, এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নাইজেরিয়ায় এ ধরনের সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠী স্থানীয়ভাবে ‘ডাকাত’ নামে পরিচিত। তাদের হামলা ও অপহরণের ঘটনা দেশটিতে দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে এ ধরনের সহিংসতা বেড়েছে।
নাইজার স্টেট ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির কর্মকর্তা আবদুল্লাহি রোফিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হামলায় বহু গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন। এদিকে প্রদেশটির পুলিশ মুখপাত্র ওয়াসিউ আবিওদুন জানান, আহতদের সহায়তায় জরুরি দল পাঠানো হয়েছে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।
নাইজেরিয়া সরকার এসব অপরাধী গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং মুক্তিপণ দেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। তবে বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা মানা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবিসিকে জানান, হামলার সময় গ্রামে কোনো নিরাপত্তা বাহিনী উপস্থিত ছিল না। তিনি সরকারের দ্রুত সহায়তা কামনা করেন।
এদিকে নিরাপত্তাহীনতার কারণে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। হামলার মাত্র এক দিন আগে নাইজার প্রদেশে ধাপে ধাপে স্কুল পুনরায় খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর আগে শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হয়েছিল।



























