গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি বন্ধের আহ্বান ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৬:১৩:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১২০ বার পড়া হয়েছে
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসন গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে হুমকি ও বক্তব্য বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এক সাক্ষাৎকারে ফ্রেডরিকসন বলেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের কথা বলা সম্পূর্ণ অর্থহীন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ডেনিশ রাজত্বের অন্তর্ভুক্ত তিনটি দেশের কোনোটিকেই যুক্তরাষ্ট্রে যুক্ত করার অধিকার ওয়াশিংটনের নেই।
এর আগেও একাধিকবার ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান ও খনিজ সম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলারের একটি টুইট নতুন করে এই বিতর্ক উসকে দেয়। টুইটে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে রাঙানো গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়, যেখানে পাশে লেখা ছিল—‘দ্রুতই’।
ডেনমার্ক সরকারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ফ্রেডরিকসন জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে খুব সরাসরি ভাষায় বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি ঐতিহাসিকভাবে মিত্র রাষ্ট্রকে হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালোভাবে অনুরোধ জানাচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে এমন একটি দেশকে, যারা স্পষ্ট করে জানিয়েছে—গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।
এরপর এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন এবং ডেনমার্ক এটি সামাল দিতে সক্ষম নয়। ফ্রেডরিকসনের বক্তব্যের পরও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন।
এরই মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের জন্য বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা ডেনমার্কজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
৫৭ হাজার জনসংখ্যার গ্রিনল্যান্ডের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ১৯৭৯ সাল থেকে দ্বীপটি স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে। অধিকাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী ভবিষ্যতে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চাইলেও জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার বিষয়ে সেখানে ব্যাপক বিরোধিতা রয়েছে।



























