ভারতের আধিপত্যবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার: আসিফ নজরুল
- আপডেট সময় : ০৩:০২:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১৩১ বার পড়া হয়েছে
অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে বাংলাদেশ ভারতের আধিপত্যবাদ থেকে মুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন আইন, ক্রীড়া ও প্রবাসীকল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক নীতি সংলাপে তিনি এ দাবি করেন।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, সরকারের সাফল্য নিয়ে সমালোচনা থাকতে পারে, তবে কিছু বিষয় চোখে পড়ার মতো। তার ভাষায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতের আগ্রাসী প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ এখন স্বাধীন কণ্ঠে কথা বলতে পারছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে এ অবস্থান সম্ভব হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, জনভোগান্তি কমাতে সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার হয়রানিমূলক মামলা নিষ্পত্তি করেছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই আইন, বিচার ও শাসন ব্যবস্থায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গত ১৬ মাসে দেশে সবচেয়ে বেশি সাইবার বুলিংয়ের শিকার তিনি নিজেই হয়েছেন দাবি করে উপদেষ্টা বলেন, তাকে নিয়ে নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে। কখনো তাকে পাকিস্তানের দালাল, আবার কখনো ভারতের দালাল বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ও পরিবার থাকার মতো অভিযোগও তোলা হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণ করতে তিনি চ্যালেঞ্জ দিলেও কেউ তা পারেনি বলে জানান তিনি।
জামিন প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, জুলাইয়ের পর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারে—এমন অনেক ব্যক্তি জামিন পেয়েছে। এর প্রায় ৯০ শতাংশ জামিন হাইকোর্ট থেকে হয়েছে। তিনি বলেন, যদি জামিন প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো অন্যায় হয়ে থাকে, তার দায় বিচারকদের। অনেক বিচারকই ফ্যাসিস্ট আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন এবং তাদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের, আইন মন্ত্রণালয়ের নয়। অথচ এসব বিষয় নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়কে দায়ী করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আইন মন্ত্রণালয়কে দোষারোপের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি হলো ভিউ ব্যবসা—তার নামে গালি দিলে অর্থ আসে। অন্যটি রাজনৈতিক এজেন্ডা—তাকে দুর্বল করলে বিশেষ রাজনৈতিক দলের উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সহজ হয়।
পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় তিন-চারজন উপদেষ্টা পদত্যাগ করতে চেয়েছেন। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা এটিকে একটি টিম হিসেবে দেখেন। একজন পদত্যাগ করলে অন্যদের মনোবল নষ্ট হবে এবং আরও চাপ তৈরি হবে—এই যুক্তিতে সবাইকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব কিছুর জবাব দেওয়ার সময় আসবে উল্লেখ করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, তিনি বাংলাদেশেই থাকবেন এবং সব প্রশ্নের উত্তর দেবেন। নিজের সততা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর তার পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে আরও ভালো জায়গায় নেওয়া সম্ভব হবে।


























