বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
- আপডেট সময় : ০৪:৩১:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১১৬ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র দফতের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটন ডিসিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে হুকার এই বক্তব্য দেন। বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন, অর্থনীতি, বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকট ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ড. রহমান নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আয়োজনের তথ্য হুকারকে অবহিত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
হুকার জানান, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং তারা ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ প্রত্যাশা করছে। বৈঠকে ড. রহমান মার্কিন ‘ভিসা বন্ড’ ব্যবস্থার প্রভাব কমানোর জন্য বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বিশেষ অনুরোধ জানান। হুকার বিষয়টি আমলে নেন এবং মার্কিন সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে আশ্বাস দেন।
ড. রহমান দুই দেশের বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য আমদানি বৃদ্ধির সম্ভাবনা তুলে ধরেন। এছাড়া, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ করেন। হুকার বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানে সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিকভাবে দায়িত্ব ভাগাভাগির গুরুত্ব আরোপ করেন।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের উন্নয়নে ডিএফসি অর্থায়ন ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে বিশেষ সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ জানান। হুকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দেন। এছাড়া, গাজায় মোতায়েন হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনীতে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও জানান তিনি।
অন্য একটি বৈঠকে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে ড. খলিলুর রহমান দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংক্রান্ত বিষয়, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, ভিসা বন্ড ও আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন।
এদিকে, নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ অনুষ্ঠানে ড. খলিলুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তা, মার্কিন পররাষ্ট্র ও সামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। ক্রিস্টেনসেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেবে।”






















