ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

ভারতে ক্যানসার গবেষণার নামে গোবর ও গোমূত্র ব্যবহার দেখিয়ে কোটি রুপি নয়ছয়


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০১:২৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১২৩ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

ভারতে ক্যানসার গবেষণার নামে গোবর ও গোমূত্র ব্যবহার করে সরকারি অর্থ নয়ছয়ের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে অবস্থিত নানাজি দেশমুখ ভেটেরিনারি সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত একটি সরকারি গবেষণা প্রকল্পকে ঘিরে এ অনিয়মের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

২০১১ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল গরুর বর্জ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যের সমন্বয়ে ক্যানসারসহ জটিল রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন। এ উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার প্রায় সাড়ে তিন কোটি রুপি বরাদ্দ দেয়। তবে এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গবেষণার কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা যায়নি। বরং প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশে অতিরিক্ত কালেক্টরের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্যয়ের নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গোবর, গোমূত্র ও সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল কেনার নামে প্রায় এক কোটি ৯২ লাখ রুপি ব্যয় দেখানো হয়েছে, যেখানে এসব উপকরণের প্রকৃত বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ লাখ রুপির বেশি হওয়ার কথা নয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গবেষণার নামে দেশের বিভিন্ন শহরে বারবার বিমানে যাতায়াত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূতভাবে গাড়ি কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। বাজেটের বাইরে সাড়ে সাত লাখ রুপি দামে কেনা একটি গাড়ির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কৃষকদের প্রশিক্ষণের নামে ব্যয় দেখানো হলেও তার পক্ষে পর্যাপ্ত নথি নেই। এছাড়া আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে তদন্ত কমিটি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, প্রতিটি কেনাকাটা সরকারি বিধি অনুসরণ করেই করা হয়েছে এবং প্রকল্পটি নিয়মিত অডিটের আওতায় ছিল। এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনটি পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

ভারতে ক্যানসার গবেষণার নামে গোবর ও গোমূত্র ব্যবহার দেখিয়ে কোটি রুপি নয়ছয়

আপডেট সময় : ০১:২৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতে ক্যানসার গবেষণার নামে গোবর ও গোমূত্র ব্যবহার করে সরকারি অর্থ নয়ছয়ের গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে অবস্থিত নানাজি দেশমুখ ভেটেরিনারি সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত একটি সরকারি গবেষণা প্রকল্পকে ঘিরে এ অনিয়মের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

২০১১ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল গরুর বর্জ্য ও দুগ্ধজাত পণ্যের সমন্বয়ে ক্যানসারসহ জটিল রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন। এ উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকার প্রায় সাড়ে তিন কোটি রুপি বরাদ্দ দেয়। তবে এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও গবেষণার কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা যায়নি। বরং প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশে অতিরিক্ত কালেক্টরের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি ২০১১ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ব্যয়ের নথিপত্র পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গোবর, গোমূত্র ও সংশ্লিষ্ট কাঁচামাল কেনার নামে প্রায় এক কোটি ৯২ লাখ রুপি ব্যয় দেখানো হয়েছে, যেখানে এসব উপকরণের প্রকৃত বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ লাখ রুপির বেশি হওয়ার কথা নয়।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গবেষণার নামে দেশের বিভিন্ন শহরে বারবার বিমানে যাতায়াত করা হয়েছে। পাশাপাশি নিয়মবহির্ভূতভাবে গাড়ি কেনা ও রক্ষণাবেক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। বাজেটের বাইরে সাড়ে সাত লাখ রুপি দামে কেনা একটি গাড়ির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কৃষকদের প্রশিক্ষণের নামে ব্যয় দেখানো হলেও তার পক্ষে পর্যাপ্ত নথি নেই। এছাড়া আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম কেনাকাটায় অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছে তদন্ত কমিটি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, প্রতিটি কেনাকাটা সরকারি বিধি অনুসরণ করেই করা হয়েছে এবং প্রকল্পটি নিয়মিত অডিটের আওতায় ছিল। এদিকে তদন্ত প্রতিবেদনটি পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।