ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: ৮ বাংলাদেশি নিহত, ২ আটক
- আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১২৪ বার পড়া হয়েছে
ইতালি পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ইউরোপ যাত্রাকালে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে আট বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার একটি এলাকায় সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—রাজৈর উপজেলার দক্ষিণ খালিয়া গ্রামের বাসিন্দা গুরুদাস বরাই (৪৫) এবং ডামেরচর এলাকার বাসিন্দা মো. মোতালেব মাতাব্বর (৬৮)।
বাংলাদেশ পুলিশ সিআইডি ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসিম উদ্দিন খান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, ইতালিতে বৈধভাবে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারীরা ভুক্তভোগীদের প্রথমে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ডিঙ্গি নৌকায় করে তাদের ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে বাধ্য করা হয়।
২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তিউনিসিয়ার উপকূলে পৌঁছানোর আগেই রাত সাড়ে ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে নৌকাটি ডুবে যায়। এতে আট বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন—সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজীব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) এবং ইমরুল কায়েস আপন (২৪)।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, পাচারকারীরা নিরাপদ ও বৈধভাবে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রত্যেক ভুক্তভোগীর কাছ থেকে আনুমানিক ১৪ লাখ টাকা আদায় করে। গ্রেফতার আসামিরা মামলার মূল পাচারকারীদের নির্দেশে অর্থ সংগ্রহ ও ভুক্তভোগী জোগাড়ের কাজে যুক্ত ছিলেন।
সিআইডি আরও জানায়, মো. মোতালেব মাতাব্বরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর আওতায় একটি পূর্ববর্তী মামলা রয়েছে, যা চলমান তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে।
ঘটনার পর চারজনের মরদেহ তিউনিসিয়ার গাবেস বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল এবং বাকি চারজনের মরদেহ জেরবা জেনারেল হাসপাতালে সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মরদেহগুলো দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৯ এপ্রিল নিহত সজল বৈরাগীর বাবা সুনীল বৈরাগী (৫৯) ঢাকার বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেফতার আসামিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি পলাতক সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার, অবৈধ অর্থের লেনদেন অনুসন্ধান এবং পুরো মানবপাচার চক্রের বিস্তার উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



























