ঢাকা ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

মিয়ানমারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা ‘ভিত্তিহীন ও অসম্পূর্ণ’ আখ্যায়িত


বঙ্গ সংবাদ ডেক্স
  • আপডেট সময় : ০৪:০৯:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৮১ বার পড়া হয়েছে

ফাইল ছবি

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে দায়ের করা মামলাকে ‘ত্রুটিপূর্ণ এবং ভিত্তিহীন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এই মামলা দায়ের করেছে গাম্বিয়া।

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বসার সময় মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কো কো হ্লাইং উপস্থিত ছিলেন।

মিয়ানমারের সামরিক সরকার রোববার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গাম্বিয়ার অভিযোগগুলো বাস্তবতা ও আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে ভিত্তিহীন এবং ত্রুটিপূর্ণ। অবিশ্বস্ত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে করা প্রতিবেদন সত্যকে প্রতিহত করতে পারে না।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২১ সালে ক্ষমতা দখল করার পরও মিয়ানমারের সামরিক শাসকরা আইসিজের মামলায় ‘সৎ বিশ্বাসে’ সহযোগিতা করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন।

গাম্বিয়া ২০১৯ সালে আইসিজেতে মামলাটি দায়ের করে। দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার দুই বছর পরে প্রায় ৭,৫০,০০০ রোহিঙ্গা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়, যার অধিকাংশই বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযানে বেঁচে থাকা রোহিঙ্গারা গণহত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা তুলে ধরেছেন। বর্তমানে প্রায় ১.১৭ মিলিয়ন রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে।

আইসিজেতে বিচারের প্রথম দিনে (১২ জানুয়ারি) গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জালো বলেন, রোহিঙ্গাদের ‘ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত করা হয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক শাসিত আইনজীবীরা শুক্রবার তাদের যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করবেন।

আইসিজে এই প্রথম দীর্ঘ এক দশকের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে গণহত্যার মামলা গ্রহণ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর প্রভাব মিয়ানমারের বাইরেও পড়তে পারে এবং সম্ভবত গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

মিয়ানমারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলা ‘ভিত্তিহীন ও অসম্পূর্ণ’ আখ্যায়িত

আপডেট সময় : ০৪:০৯:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক আদালতে দায়ের করা মামলাকে ‘ত্রুটিপূর্ণ এবং ভিত্তিহীন’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এই মামলা দায়ের করেছে গাম্বিয়া।

নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ১২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বসার সময় মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কো কো হ্লাইং উপস্থিত ছিলেন।

মিয়ানমারের সামরিক সরকার রোববার (১৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘গাম্বিয়ার অভিযোগগুলো বাস্তবতা ও আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে ভিত্তিহীন এবং ত্রুটিপূর্ণ। অবিশ্বস্ত প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে করা প্রতিবেদন সত্যকে প্রতিহত করতে পারে না।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ২০২১ সালে ক্ষমতা দখল করার পরও মিয়ানমারের সামরিক শাসকরা আইসিজের মামলায় ‘সৎ বিশ্বাসে’ সহযোগিতা করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন।

গাম্বিয়া ২০১৯ সালে আইসিজেতে মামলাটি দায়ের করে। দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার দুই বছর পরে প্রায় ৭,৫০,০০০ রোহিঙ্গা নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়, যার অধিকাংশই বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক অভিযানে বেঁচে থাকা রোহিঙ্গারা গণহত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা তুলে ধরেছেন। বর্তমানে প্রায় ১.১৭ মিলিয়ন রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে।

আইসিজেতে বিচারের প্রথম দিনে (১২ জানুয়ারি) গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জালো বলেন, রোহিঙ্গাদের ‘ধ্বংসের লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত করা হয়েছে। মিয়ানমারের সামরিক শাসিত আইনজীবীরা শুক্রবার তাদের যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করবেন।

আইসিজে এই প্রথম দীর্ঘ এক দশকের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে গণহত্যার মামলা গ্রহণ করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর প্রভাব মিয়ানমারের বাইরেও পড়তে পারে এবং সম্ভবত গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলবে।