ঢাকা ০৬:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সাভারে উপজেলা পর্যায়ে গুণী শিক্ষক নির্বাচিত মোহাম্মদ নূর উদ্দিন

মহেশখালীতে জাপানি প্রযুক্তিতে আদর্শ মৎস্যগ্রাম গঠনের উদ্যোগ


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:২০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১২১ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা) জাপানের খ্যাতনামা ‘সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন’ (এসপিএফ)-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। মিডার পক্ষে নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং এসপিএফ-এর ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ওপিআরআই) সভাপতি অধ্যাপক মিৎসুতাকু মাকিনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী মহেশখালীর তিনটি গ্রামকে জাপানের ‘উমিগিও’ মডেলে আধুনিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ মৎস্যগ্রামে রূপান্তর করা হবে। এর মধ্যে থাকবে জেটি নির্মাণ, স্বয়ংক্রিয় মাছ অবতরণ কেন্দ্র, কোল্ডচেইন ব্যবস্থা, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন। পাশাপাশি, জেলেদের কল্যাণ, প্রশিক্ষণ ও সাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমাদের সাগর একটি বিশাল সম্পদ, কিন্তু এটি দিন দিন দূষিত হচ্ছে। এই সমঝোতা সাগর রক্ষা এবং পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, “বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় বিজ্ঞান ও কৌশল জোরদার করা হবে, যা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”

অধ্যাপক মিৎসুতাকু মাকিনো আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতা জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করবে এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করবে। চুক্তিটি ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান রিজিওনাল ডায়ালগ’-এর অংশ হিসেবে স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

মহেশখালীতে জাপানি প্রযুক্তিতে আদর্শ মৎস্যগ্রাম গঠনের উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৮:২০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি টেকসই অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ। মহেশখালী ইন্টিগ্রেটেড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (মিডা) জাপানের খ্যাতনামা ‘সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন’ (এসপিএফ)-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। মিডার পক্ষে নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং এসপিএফ-এর ওশান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (ওপিআরআই) সভাপতি অধ্যাপক মিৎসুতাকু মাকিনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি অনুযায়ী মহেশখালীর তিনটি গ্রামকে জাপানের ‘উমিগিও’ মডেলে আধুনিক, স্বয়ংসম্পূর্ণ মৎস্যগ্রামে রূপান্তর করা হবে। এর মধ্যে থাকবে জেটি নির্মাণ, স্বয়ংক্রিয় মাছ অবতরণ কেন্দ্র, কোল্ডচেইন ব্যবস্থা, উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা এবং গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন। পাশাপাশি, জেলেদের কল্যাণ, প্রশিক্ষণ ও সাগরে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমাদের সাগর একটি বিশাল সম্পদ, কিন্তু এটি দিন দিন দূষিত হচ্ছে। এই সমঝোতা সাগর রক্ষা এবং পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, “বঙ্গোপসাগরের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় বিজ্ঞান ও কৌশল জোরদার করা হবে, যা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।”

অধ্যাপক মিৎসুতাকু মাকিনো আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতা জাপান-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করবে এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করবে। চুক্তিটি ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নর্থইস্ট ইন্ডিয়ান ওশান রিজিওনাল ডায়ালগ’-এর অংশ হিসেবে স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন।