হাদি হত্যা মামলার পুনঃতদন্তের নির্দেশ সিআইডিকে
- আপডেট সময় : ০৬:৪৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০৯৬ বার পড়া হয়েছে
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-কে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মামলার বাদী আব্দুল্লাহ আল জাবের চার্জশিটের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দাখিল করেন। পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল আদালতে ওই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানিতে তিনি বলেন, দাখিল করা চার্জশিটে মামলার মূল রহস্য উদঘাটিত হয়নি। ঘটনার পর মূল আসামিদের নিরাপদে পালানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের কেউই এখনো গ্রেফতার হয়নি। দায়সারাভাবে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
আইনজীবী আরও বলেন, হাদি সব সময় ন্যায়বিচারের পক্ষে ছিলেন। আমরা চাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসুক এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন সাজা না পায়। এজন্য মামলাটির পুনঃতদন্ত প্রয়োজন।
শুনানি শেষে আদালত আদেশের বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখেন।
এর আগে গত ১২ জানুয়ারি চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষকে সহযোগিতার জন্য বাদীপক্ষে তিনজন আইনজীবী নিয়োগের আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। চার্জশিট পর্যালোচনার জন্য সময় চাইলে আদালত দুই দিনের সময় মঞ্জুর করেন এবং আজকের দিন শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।
গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় হামলার শিকার হন শরীফ ওসমান হাদি। মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্তের একজন চলন্ত রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
২০ ডিসেম্বর দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির নিকটে তাকে দাফন করা হয়।


























