ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
সাভারে পরিত্যক্ত ঘর থেকে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ তিন যুবক গ্রেপ্তার পুলিশের স্বেচ্ছাচারিতায় আরামে ঘুরছে-ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে-থাকছে আসামীরা! জামালপুরে এক সন্তানের জননীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদন্ড জনসেবায় সরাসরি মানুষের পাশে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের গণশুনানি পারিবারিক কলহ থামাতে গিয়ে বাঁশখালী পৌরসভায় এক যুবক নিহত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশের মধ্যেই গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সাতক্ষীরায় নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ শুরু ছাত্রদল প্রতিহত করলে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এক মিনিটও রাজপথে দাঁড়াতে পারবে না: তমিজ উদ্দিন জাতিসংঘ অধিবেশনে একাধিক বৈঠকে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

লুট হওয়া সব অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচন সামনে রেখে উদ্বেগ বাড়ছে


নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৩৮:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১৩২ বার পড়া হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার। বিশেষ করে গণঅভ্যুত্থানের সময় থানা ও কারাগার থেকে লুট হওয়া পাঁচ হাজারের বেশি অস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আলোচিত একাধিক হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। হঠাৎ করেই আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা যেন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। কয়েকটি ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হলেও বড় অংশ এখনো অধরা। কয়েক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনীর ৯ম পদাতিক ডিভিশন জার্মানির তৈরি একটি অত্যাধুনিক পিস্তল উদ্ধার করে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

পুলিশের তথ্যমতে, গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন ধরনের মোট ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় ৪ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ। এখনো উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১১৪টি চাইনিজ রাইফেল, ৩১টি চাইনিজ এসএমজি, ২০৭টি সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু পিস্তল, ৪৫৫টি নাইন এমএম পিস্তল এবং ৩৯৩টি শটগান।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, অবৈধ অস্ত্র যেখানেই থাকুক না কেন, তা উদ্ধার করা পুলিশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করা গেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, নিয়মিতভাবেই অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে এবং নির্বাচনের আগেই একটি বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

তবে পুলিশের এই আশ্বাসে পুরোপুরি আশ্বস্ত নন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. মো. তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে এবং অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান প্রমাণ প্রয়োজন।

ড. তৌহিদুল হকের মতে, যেভাবে এসব অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে টার্গেট কিলিং হয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে অস্ত্র ব্যবহারকারীরা সবসময় লুটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগী ও পৃষ্ঠপোষকরা অনেক ক্ষেত্রে আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুধু অভিযানের নাম দিয়ে ভয় তৈরি করলেই হবে না, অভিযান হতে হবে কঠোর ও জোরালো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা সোর্সগুলো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারলেই অভিযানের সফলতা আসবে বলে মনে করেন এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ। তিনি সতর্ক করে বলেন, টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনাগুলো ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রার্থীদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে নির্বাচন উপযোগী পরিবেশ আছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠবে।

সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীগুলোর মনোবল ফেরাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

× Advertisement

লুট হওয়া সব অস্ত্র এখনো উদ্ধার না হওয়ায় নির্বাচন সামনে রেখে উদ্বেগ বাড়ছে

আপডেট সময় : ১২:৩৮:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার। বিশেষ করে গণঅভ্যুত্থানের সময় থানা ও কারাগার থেকে লুট হওয়া পাঁচ হাজারের বেশি অস্ত্রের প্রায় ৩০ শতাংশ এখনো উদ্ধার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে আলোচিত একাধিক হত্যাকাণ্ড ও ডাকাতির ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। হঠাৎ করেই আধুনিক অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা যেন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। কয়েকটি ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার হলেও বড় অংশ এখনো অধরা। কয়েক সপ্তাহ আগে সেনাবাহিনীর ৯ম পদাতিক ডিভিশন জার্মানির তৈরি একটি অত্যাধুনিক পিস্তল উদ্ধার করে, যা পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

পুলিশের তথ্যমতে, গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন ধরনের মোট ৫ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় সাড়ে ৬ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়। ২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে ৪ হাজার ৪৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় ৪ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ। এখনো উদ্ধার না হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১১৪টি চাইনিজ রাইফেল, ৩১টি চাইনিজ এসএমজি, ২০৭টি সেভেন পয়েন্ট সিক্স টু পিস্তল, ৪৫৫টি নাইন এমএম পিস্তল এবং ৩৯৩টি শটগান।

পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, অবৈধ অস্ত্র যেখানেই থাকুক না কেন, তা উদ্ধার করা পুলিশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করা গেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, নিয়মিতভাবেই অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে এবং নির্বাচনের আগেই একটি বড় অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

তবে পুলিশের এই আশ্বাসে পুরোপুরি আশ্বস্ত নন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. মো. তৌহিদুল হক। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে এবং অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান প্রমাণ প্রয়োজন।

ড. তৌহিদুল হকের মতে, যেভাবে এসব অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে টার্গেট কিলিং হয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে অস্ত্র ব্যবহারকারীরা সবসময় লুটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগী ও পৃষ্ঠপোষকরা অনেক ক্ষেত্রে আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুধু অভিযানের নাম দিয়ে ভয় তৈরি করলেই হবে না, অভিযান হতে হবে কঠোর ও জোরালো।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোয়েন্দা সোর্সগুলো কার্যকরভাবে কাজ করতে পারলেই অভিযানের সফলতা আসবে বলে মনে করেন এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ। তিনি সতর্ক করে বলেন, টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনাগুলো ইতোমধ্যেই নির্বাচনী প্রার্থীদের মধ্যে ভয় তৈরি করেছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে নির্বাচন উপযোগী পরিবেশ আছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠবে।

সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনীগুলোর মনোবল ফেরাতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।