রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের
- আপডেট সময় : ০২:১২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২০৯২ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)-এ রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যার অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার। দেশটির দাবি, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযান ছিল বৈধ এবং এটিকে গণহত্যা বলা যায় না।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার অভিযোগ তুলে সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। ওই অভিযানে গণহত্যা, যৌন সহিংসতা এবং বাড়িঘর ও গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।
জাতিসংঘের এক তদন্ত প্রতিবেদনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলা হয়, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য নিয়েই এ অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। প্রতিবেদনে প্রায় ১০ হাজার রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার তথ্য উঠে আসে।
সহিংসতার মুখে প্রাণ বাঁচাতে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।
ওই মামলার শুনানি বর্তমানে আইসিজেতে চলমান। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) শুনানিতে মিয়ানমারের পক্ষে বক্তব্য দেন দেশটির প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং। তিনি বলেন, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলার জবাবে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল এবং সেটি আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বৈধ। গাম্বিয়া রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এর আগে সোমবার শুনানির শুরুতে গাম্বিয়ার বিচারমন্ত্রী দাউদা জাল্লো অভিযোগ করেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে দশকের পর দশক ধরে পরিকল্পিত নিপীড়ন চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার। তবে গাম্বিয়ার উপস্থাপিত প্রমাণ এবং জাতিসংঘের তদন্ত মিশনের প্রতিবেদন অভিযোগ প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করতে পারেনি বলে দাবি করেছে নেইপিদো।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার রায় মিয়ানমারের বাইরেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যা মামলার ক্ষেত্রেও এ রায়ের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



























